রাজধানীতে অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেপ্তার ১০

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও দারুসসলাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্রসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময়ে দুটি গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আবুল খায়ের তুহিন, মামুন, লিটন, আরিফ, সুমন, কাশেম, শুক্কুর আলী ওরফে ডিলার আলী, মো. হারুন অর রশিদ ওরফে বস হারুন, মো. রেজাউল করিম ওরফে ইয়াবা করিম ও মো. হারুন অর রশিদ।

তাদের কাছ থেকে ৩৬ হাজার ৪০০ ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি নিউ ব্রান্ড নিশান জিপ গাড়ি, একটি করোলা প্রাইভেট কার, ২২ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তল, দুটি বিদেশী পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ।

মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর দারুসসালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী মামুন, লিটন, আরিফ, সুমন ও কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। তাদের বিরুদ্ধে দারুসসালাম থানায় মামলা করার পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে একই দিন দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অন্য একটি দল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তারা শুক্কুর আলী ওরফে ডিলার আলী, বস হারুন, ইয়াবা করিম ও হারুন অর রশিদকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা গোয়েন্দা পুলিশকে জানায়, মাদক জগতের স¤্রাট জুবায়ের মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করায়। পরে ওই ইয়াবা শ্যামলী পরিবহনের ড্রাইভার শুক্কুর আলীর সহযোগিতায় রাজধানীতে প্রবেশ করায়। এরপর তা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি মূল্যে বিক্রি করে থাকে।

গোয়েন্দা পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ব্যবসায়ী আবুল খায়ের তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তুহিন গোয়েন্দা পুলিশকে জানান, তিনি তার অন্য সহযোগীদের নিয়ে রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় অস্ত্র ও গুলি বিক্রি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. মারুফ হাসান সরদার, অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কোতোয়ালি জোনাল টিমের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহফুজা আফরোজ লাকী।

Facebook Comments