টেকনাফে সরকারী নির্মাণাধীন ভবনে ব্যবহৃত হচ্ছে বনাঞ্চল ও সৈকতের পাথর

bulu teknaf pic 16-1-14গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ(কক্সবাজার): টেকনাফ উপজেলার উপকুলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার সমুদ্র সৈকত ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলণ করে সরকারী নির্মাণাধীন ভবনে তা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অথচ এ ব্যাপারে বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দেখেও না দেখার ভান করে আছে। দূর্নীতিবাজ ঠিকাদাররা সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করেই এসব পাথর কম দামে ক্রয় করে সরকারী নির্মাণাধীন ভবনে ব্যবহার করছে। যার কারণে এসব নির্মাণাধীন ভবনগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর এসব কাজগুলো করছে ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে।

সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার উপকুলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার সমুদ্র সৈকত ও উপজেলার বিভিন্নস্থানে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলণ করা হচ্ছে। টেকনাফের শামলাপুর থেকে মিঠাপানিরছড়া পর্যন্ত দীর্ঘ ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সমুদ্র সৈকত থেকে নারী-শিশু-পুরুষ দল বেধেঁ প্রাকৃতিক পাথর উত্তোলন করতে দেখা গেছে। এরা সৈকত থেকে পাথর তুলে প্রথমে সৈকতের বালু চরে স্তুপ করে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় অথবা বসতবাড়ি থেকে সামান্য দূরে মজুদ করে কংকর ভেঙ্গে ফুট হিসাবে বিক্রি করছে এসব সরকারী নির্মাণাধীন ভবন ঠিকাদারদের। এছাড়া দালাল শ্রেনীর কিছু লোক ও চিহ্নিত পাথর ব্যবসায়ী এসব পাথর সংগ্রহ করে বড় ধরনের মজুদ গড়ে তুলে জেলার বিভিন্ন স্থানে সাপ্লাই দেয়। একইভাবে টেকনাফ উপজেলার ৩টি রেঞ্জের অধীনে ১১টি বন বিট এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলণের মত অপরাধ সংঘঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে হোয়াইক্যং রেঞ্জের হেড কোয়র্টার বিট, রইক্ষং বিট, মনখালী বিট, শীলখালী রেঞ্জের শামলাপুর (মনতইল্লা) বিট, শীলখালী হেড কোয়ার্টার বিট, মাথাভাঙ্গা বিট, রাজারছড়া বিট, টেকনাফ রেঞ্জের হেড কোয়ার্টার বিট, মুছনী বিট, হ্নীলা বিট, ঝিমংখালী বিট। এর মধ্যে বেশী আহরিত হচ্ছে শীলখালী রেঞ্জের আওতাধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সমুদ্র সৈকত থেকে। কয়েক কিলোমিটার পর পর বন বিভাগের অফিস এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকা সত্বেও সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সমুদ্র সৈকত থেকে এভাবে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরত একজন কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সরকারী নির্মানাধীন ভবনে সিলেটি পাথর ব্যবহারের বিধি থাকলেও এসব নি¤œমানের পাথরগুলো নির্ধারিত হারে বিভিন্ন জনকে ম্যানেজ করে পাথর আনা ও ব্যবহার করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফের গোদারবিলে দমকল বাহিনীর ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ও কয়েকটি স্থানে ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হলেও বর্তমানে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্কুল ভবন, ব্রীজ-কালভার্ট বিশেষতঃ গোদারবিল বায়তুশ শরফ রিয়াজুল জন্নাহ দাখিল মাদ্রাসায় দু’টি বহুতল ভবন ও লম্বরী মলকাবানু হাইস্কুলে সাইক্লোন শেল্টার ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। প্রত্যেকটা কাজে লোক দেখানো সামান্য পরিমাণ সিলেটি পাথর স্তুপ করে রাখা হলেও লাখ লাখ ঘনফুট সংরক্ষিত ও সৈকত থেকে উত্তোলন করা পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসনও এব্যাপারে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে। এভাবে পাথর উত্তোলন মারাতœকভাবে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে টেকনাফ উপজেলার উপকুলীয় এলাকাগুলোতে। তাই অতিসত্ত্বর এগুলো প্রতিরোধে স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদিসহ উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারী কামনা করছেন এলাকাবাসী। তা না হলে সৈকত এলাকার ভাঙ্গনকে কেউ ঠেকাতে পারবে না বলে মত প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments