বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন স্পন্সর, আয়ে রেকর্ড

গত বছরের মে মাসে বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘টপ অব মাইন্ড’ এর মাধ্যমে ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকায় ২ বছরের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টিম স্পন্সরশিপ স্বত্ব কিনে নিয়েছে মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান রবি।

তবে সাহারা যেখানে এফটিপির সব দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ এবং টুর্নামেন্ট ছাড়াও আইসিসি’র ইভেন্টগুলোতে পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টিম স্পন্সরশিপ, সেখানে রবি’র সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে আইসিসি’র টুর্নামেন্টগুলো ছিল টিম স্পন্সরশিপের বাইরে।

সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে বিসিবি। ভারতে আসন্ন টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টিম স্পন্সরশিপ ইতোমধ্যে বিক্রি করেছে বিসিবি ভোক্তাপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পণ্য ‘ফ্রেশ’ এর কাছে।

বিস্ময়কর হলেও সত্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ইমেজ বৃদ্ধি পাওয়ায় টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে টিম স্পন্সরশিপ বিক্রি থেকে বিসিবি’র অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা! একটি মাত্র আসরে টিম স্পন্সরশিপ বিক্রি থেকে আয়ে এটাই রেকর্ড।

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বেক্সিমকোর কাছে টিম স্পন্সরশিপ বিক্রি থেকে আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি টাকা, সেখানে টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে ফ্রেশ এর স্পন্সরমানির পরিমাণ ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা!

আনুষ্ঠানিক টিম স্পন্সরশিপ ঘোষণার আগেই অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য। ২ বছরের জন্য টিম স্পন্সরশিপ স্বত্ব পাওয়া রবির ও নাকি আগ্রহ ছিল টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের টিম স্পন্সরশিপে। তবে তাদের আর্থিক প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিসিবি।

এমন তথ্যই দিয়েছেন বিসিবি’র সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন ‘যেহেতু রবি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চলমান টিম স্পন্সর, তাই আমরা টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে তাদেরকেই টিম স্পন্সর হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের আর্থিক প্রস্তাবের পরিমাণ সন্তোষজনক মনে হয়নি বলেই অন্য প্রতিষ্ঠানের আগ্রহকে বিবেচনা করতে হলো।’

তবে যে প্রক্রিয়ায় টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপের টিম স্পনন্সরশিপ স্বত্ব বিক্রি করেছে বিসিবি, সেই প্রক্রিয়াটা কিন্তু পরিচ্ছন্ন নয়। টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকপে বাংলাদেশ দলের টিম স্পন্সরশিপ স্বত্ব বিক্রির জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানসমুহের মধ্যে সীলগালা খামে সর্বোচ্চ দরের প্রস্তাবটা দেখতে পারতো বিসিবি।

তবে সেই প্রক্রিয়ায় যায়নি বিসিবি। মিডিয়াকেও টিম স্পন্সরশিপ বিক্রি নিয়ে ধোঁয়াশায় রেখেছে বিসিবি। যে বিজ্ঞাপনী সংস্থার মাধ্যমে ২ বছরের জন্য টিম স্পন্সরশিপ মোটা অংকে বিক্রি করেছে, সেই বিজ্ঞাপনী সংস্থা টপ অব মাইন্ডকেই টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপের টিম স্পন্সরশিপ বিক্রির মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানোয় উঠেছে প্রশ্ন।

বিসিবি’র কমার্শিয়াল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম অবশ্য এই প্রক্রিয়ার পক্ষেই যুক্তি দেখাচ্ছেন, ‘যেহেতু টপ অব মাইন্ডের মেয়াদের মধ্যে আইসিসি’র টুর্নামেন্টটি পড়ছে, তাই তাদেরকেই টিম স্পন্সরশিপ বিক্রির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে।’

তবে সময় স্বল্পতার কারণেই টিম স্পন্সরশিপ স্বত্ব বিক্রিতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান সম্ভব হয়নি বলে জানিয়ে বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘বিকল্প পথ ছিল, চাইলে ওপেন বিড করা যেতো, তবে তার প্রক্রিয়ার জন্য যতটা সময় হাতে থাকা দরকার, তা ছিল না বলেই টপ অব মাইন্ডকে টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের টিম স্পন্সরশিপ স্বত্ব বিক্রির দায়িত্বটা দেয়া হলো। তাছাড়া ওদের অফারটাও বেশ ভাল।’

২ বছর মেয়াদে বিসিবি’র সাথে চুক্তিবদ্ধ রবি’র লোগো কিন্তু শুধু বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিতেই বাধ্যতামূলক নয়, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এবং এজ গ্রুপের দলগুলোর জন্যও তা প্রযোজ্য।

তবে সদ্য সমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং আসন্ন টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য যেখানে টিম স্পন্সর ফ্রেশ, সেখানে টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী দলের টিম স্পন্সর প্রসাধন পন্য কিউট। এশিয়া কাপে অবশ্য টিম স্পন্সরশিপ যথারীতি থাকছে রবি’র হাতেই।

সূত্র: ইনকিলাব

Facebook Comments