যুক্তরাজ্যে পড়তে চান?

ঢাকা: ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ‘এডুকেশন ইউকে এক্সিবিশন ২০১৬’। ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এবং ৩ ফেব্রুয়ারি সিলেটে অনুষ্ঠিত হয় এ মেলা। যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার খুঁটিনাটি বিষয় ধরা হয় এতে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী অনেকেরই প্রথম পছন্দ যুক্তরাজ্য। বিশ্বের নামকরা অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই সেখানে অবস্থিত। কিন্তু যুক্তরাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে হলে কি করণীয় সে সম্পর্কে অনেকের স্বচ্ছ ধারণা নেই। বিষয়টি মাথায় রেখে ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রতিবছর বাংলাদেশে আয়োজন করছে উচ্চশিক্ষা মেলা। এবারও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো ‘এডুকেশন ইউকে এক্সিবিশন ২০১৬’ শীর্ষক মেলা। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক এ মেলায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা মেলায় অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাঁঁদের কাছ থেকে জেনে নিতে পেরেছেন যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত নিজেদের জিজ্ঞাসাগুলো। ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ‘এডুকেশন ইউকে এক্সিবিশন ২০১৬’। ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এবং ৩ ফেব্রুয়ারি সিলেটে অনুষ্ঠিত হয় এ মেলা। মেলার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার খুঁটিনাটি বিষয় আগ্রহীদের কাছে তুলে ধরা।

মিলেছে দরকারি তথ্য

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই উচ্চশিক্ষা মেলায় অংশ নেন। বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি অংশ নেন। এসিসিএ পড়ছেন জুনাইদ বকত আদনান। সিলেটে এডুকেশন ইউকে এক্সিবিশনে এসেছিলেন বাণিজ্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত সুবিধা সম্পর্কে জানতে। উচ্চশিক্ষা মেলায় এসেছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তাসমিয়া আজমল। তিনি বললেন, ‘বাইরে পড়তে যেতে হলে আমাদের শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দারস্থ হতে হয়। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে সব বিষয়ে জানা সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তাঁরা নিজেরাই ভালো জানেন না। ভুল তথ্যও দেন অনেকে। এখানে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অংশ নেওয়ায় নিজের প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সহজে পেয়ে গেলাম।’

অনেক সুযোগ যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যে নানা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। আন্ডার গ্র্যাজুয়েটের ক্ষেত্রে সাধারণত আইইএলটিএসে ছয় পয়েন্ট চাওয়া হয়। মেডিসিন বা বিশেষ বিষয়ের জন্য লাগে সাত পয়েন্ট। দেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিতে সারা বছরই নানা আয়োজন করে থাকে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এর মধ্যে আছে মেলার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, ভিসাসংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া, ফ্রি লাইব্রেরি মেম্বারশিপ। উচ্চশিক্ষা মেলা ছাড়াও প্রতিবছর ওপেন ডে ও সেমিনারের আয়োজন করে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এসব কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন যুক্তরাজ্যে পড়াশোনায় আগ্রহী যেকোনো শিক্ষার্থী।

খরচাপাতি

নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার ব্যয়। প্রথমত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, কোন বিষয়ে পড়বেন, কোন শহরে থাকবেন ইত্যাদি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবাসস্থল কাছে হলে খরচ কিছুটা কম হয়। দূরে হলে সেটা বেড়ে যায়। তবে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সূত্র অনুযায়ী, আন্ডার গ্র্যাজুয়েশনের ক্ষেত্রে ব্যয় প্রতি মাসে ৮০০ থেকে এক হাজার পাউন্ড।

স্কলারশিপের সুযোগ

পোস্ট গ্র্যাজুয়েটের বেলায় যুক্তরাজ্যে স্কলারশিপের সুযোগ বেশি। সে তুলনায় আন্ডার গ্র্যাজুয়েটদের জন্য সুবিধা কম থাকে। স্কলারশিপের ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করলে ভালো সুবিধা পাওয়া যায়। সেমিস্টার ফলাফল ভালো হলে পরের সেমিস্টারে স্কলারশিপ পাওয়া যায়। এর বাইরে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরেক ধরনের স্কলারশিপ চালু আছে। মা-বাবা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হন, তবে সন্তানরা স্কলারশিপ পান। আবার স্বামী-স্ত্রী অথবা ভাইবোন একসঙ্গে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে যান, তবে তাঁদের বেলাও স্কলারশিপ রয়েছে।

পার্টটাইম জব

যুক্তরাজ্যে পড়ার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে তা একেবারেই সীমিত। একজন শিক্ষার্থী প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য এই ব্যবস্থা। তবে ক্রিসমাসসহ ছুটির দিনগুলোতে চাইলে বেশি সময় কাজ করা যায়। যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থীরা সাধারণত বিভিন্ন দোকান ও রেস্টুরেন্টে কাজ করে থাকেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও কাজের সুযোগ মেলে। সে ক্ষেত্রে লাইব্রেরিতে কিংবা কোনো শিক্ষকের সহকারী হিসেবে, বিভিন্ন প্রোগ্রামে ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ মিলতে পারে।

আয়োজকরা বললেন

ব্রিটিশ কাউন্সিলের সার্ভিসেস ফর এডুকেশন মার্কেটিং পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রোগ্রামসের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. জহির উদ্দিন বলেন, ‘পৃথিবীর প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থী এখানে পড়তে আসেন। ফলে সেখানে পড়তে গেলে পুরো পৃথিবীর সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকে। এসব বিষয় মাথায় রেখে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করতে এ রকম আয়োজন ব্রিটিশ কাউন্সিলের। মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাই ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।’

Facebook Comments