রাবিতে অনশনরত তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য, জরুরি বৈঠক মঙ্গলবার

আরিফুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : ডিসকলিজিয়েট হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা না দিতে পারা অনশনরত তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এ বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের এমন পরিস্থিতিতে আগামীকাল মঙ্গলবার বিভাগের একাডেমিক কমিটির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনশন চলাকালে তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তারা হলেন-আফিফা অন্বেষা, সুমাইয়া খন্দকার ও নাজমুল চৌধুরী।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ও পরীক্ষার সময় পরিবর্তনের দাবিতে গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে বিভাগের সামনে ‘আমরণ অনশন’ কর্মসূচি শুরু করেন এসব ডিসকলিজিয়েট শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা বিভাগের সভাপতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে আছেন। একই কারণে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ডিসকলিজিয়েট ৪৫ জন শিক্ষার্থীও এ কর্মসূচিতে যোগ দেয়। আগামী ১৫ মার্চ দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৭৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। বিশেষ কারণে তা সম্ভব না হলে জরিমানা সাপেক্ষে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সে ক্ষেত্রেও ৬০ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হবে।

বিভাগের শিক্ষকরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনেই আমরা চলছি। ক্লাসে উপস্থিত না থাকার কারণেই তারা ডিসকলিজিয়েট হয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এর আগে শূন্য শতাংশ উপস্থিতি থাকলেও পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়েছে, তবে নতুন সভাপতি এসে কোনোরকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই ক্লাসে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছেন। ফলে এ রকম হয়েছে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে আইন বিভাগের সভাপতির সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসানসহ অন্যান্য নেতারা।

বৈঠক শেষে রাশেদুল ইসলাম ও খালিদ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দাবি জানিয়েছি, এতোগুলো শিক্ষার্থীর জন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে পরবর্তী পরীক্ষায় যেন তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় এবং অনুষ্ঠিত একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারা ডিসকলিজিয়েট শিক্ষার্থীরা পরবর্তী বর্ষে যেন ইমপ্রুভ (মানোন্নয়ন) দিতে পারে।’

জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিভাগের একাডেমিক কমিটির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সভায় সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বিভাগের সভাপতি দাবি করেন, ‘যদি তারা আমি আসার পর থেকেই পুরোপুরি ক্লাস করত তাহলে ডিসকলিজিয়েটের কোনো সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু তাঁদের বারবার ক্লাসে উপস্থিত থাকার তাগিদ দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে।’

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

Facebook Comments