প্রযুক্তিগত আচরণ ও আমাদের (অ)-সভ্যতা

আমার ঘরে টিভি নেই। তাই মোবাইল দিয়ে টিভি দেখার কাজটা চালাই। জাগো বিডি এপস দিয়ে খবর সহ অন্যান্য অনুষ্ঠান দেখি।

ক্রিকেট খেলা গুলো মোবাইল দিয়ে দেখি। Rabbithole Mini দিয়ে Gtv live দেখি। এছাড়া ফুটবল ম্যাচ গুলিও লাইভ টিভি এপস দিয়ে দেখি এই মোবাইল দিয়ে।

ইউটিউব থেকে বাংলাদেশের নাটক, ভালো কোন মুভি দেখি। ভরসা আমার এই মোবাইল।

আমি ফেসবুকে মেসেঞ্জার ব্যবহার করি। বাসায় ওয়াইফাই আছে, ডাটা কানেকশন করলেই অনলাইন দেখায়। তাই অনেক মানুষের প্রায়ই জিজ্ঞেস করে ফেসবুকে সারাদিন কি করেন??? এদের জ্বালায় নাটক, খেলা অথবা মুভি দেখা দায় হয়ে গিয়েছে।
তবে পরিচিত মানুষ জিজ্ঞেস করতেই পারে। তবে অপরিচিত মানুষ এই সব নিয়ে মাথা ঘামাইলে মাথা চৈত্র-বৈশাখ মাসের মত কিঞ্চিত গরম হয় আর কি।তাই ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে লগ আউট হওয়ার অপশন খুজলাম কিন্তু পেলাম না।

এবার আসল কথায় আসি, ফেসবুকে মেসেঞ্জারে যুক্ত হয়েছে কল সুবিধা, একেবারে রীতিমত ভিডিও কল।

এই সুযোগে যারা নাম্বার চেয়ে পায় নাই, অথবা মনে মনে পাবার আশা করেছিল তারা এবার সরাসরি ভিডিও কলে চাপ মারছে।একটা মানুষ কিভাবে আছে কোথায় আছে, তার সাথে আমার সম্পর্ক কেমন এই সব না ভেবেই কল দিচ্ছে।

এর কারন হল Cultural Lag Theory. অর্থাৎ সংস্কৃতি আর সভ্যতা যদি একসাথে না চলে তবে এই সমস্যা হয়। বাঙ্গালিরা সব সময় আগেই সভ্যতা পায় কিন্তু তাদের সিভিক সেন্স সেই আদিম যুগেই পড়ে থাকে। এখনো জুম্মার নামাজের সময় ইমরান হাশমীর হিন্দি গান অথবা শাকিরার ওয়াকা ওয়াকা বেজে উঠে। অথবা পাব্লিক বাসে সংসারের যাবতীয় কথা অবলীলায় বলে যাচ্ছে, পাশের মানুষের সমস্যা হচ্ছে কিনা সেই দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই কারো।

আচরণ হল সব চেয়ে বড় জিনিস। একটা জাতির ও আচণ থাকে। সেই আচণ হতে পারে রাজনৈতিক অথবা সামাজিক। প্রযুক্তিগত আচরণ দেখে ও একটা দেশের অথবা সমাজের সুস্থতা বোঝা যায়। তাই সভ্যতা যখন সংস্কৃতি থেকে এগিয়ে যায় তখনই একটা সমাজের মুল্যবোধ হারিয়ে যায়।

মো: রেজাউল করিম, প্রভাষক,সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথবিশ্ববিদ্যালয়­।

Facebook Comments