জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরিতে সময় লাগবে ১০ বছর

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে ‘মহামারি’ আকারে বিস্তার লাভ করা মশাবাহিত রোগ জিকা ভাইরাসটি ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মানব সভ্যতার জন্য ‘হুমকি’ হয়ে উঠেছে ভাইরাসটি।

কারণ, ধারণা করা হচ্ছে জিকা ভাইরাসের আক্রমণে নবজাতকের মস্তিষ্কের আকার অপেক্ষাকৃত ছোট হয়, যা পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অক্ষমতাসহ মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এ ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরিতে আরও ১০ বছর সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

ভাইরাসটি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ানোর কারণ রয়েছে উল্লেখ করে ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ইনফেকশন অ্যান্ড ইমিউনিটি বিভাগের পরিচালক প্রফেসর স্টক ওয়েভার বলেন, ২ বছরের মধ্যে ভাইরাসটির পরীক্ষামূলক প্রতিষেধক আবিষ্কার সম্ভব হবে। তবে তা আক্রান্তদের জন্য ব্যবহারে অনুমোদনের সময় লাগবে অন্তত আরও ১০ বছর।

ভাইরাসটির প্রতিষেধক আবিষ্কারে টেক্সাস ইউনির্ভাসিটির মেডিকেল ব্রাঞ্চ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে গবেষকরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এর সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া খুবই জটিল।

এদিকে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভেদরে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সন্তান না নিতে নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে না দিলেও কলোম্বিয়া ও ইকুয়েডরের সরকারও জনসাধারণকে একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ব্রিটেনেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।

বিশেষ প্রজাতির ডেঙ্গুজ্বর ছড়ানো এডিস এজিপ্টি মশকির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। আর এ ধরনের মশকির দেখা মেলে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের দিকে।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তর আমেরাকায় জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তবে কানাডা ও চিলি বিপদের আওতায় নেই।

১৯৪৭ সালে উগান্ডায় লেক ভিক্টোরিয়ার কাছে জিকা বনে প্রথম একটি বানরের দেহে জিকা ভাইরাসের সন্ধান মেলে। পরে ওই বনের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। সাধারণত আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোয় এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।

তবে এবার তা আমেরিকা মহাদেশে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রাজিলে তা মহামারীর আকার ধারণ করেছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ব্রাজিলে গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার নবজাতক মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত হয়ে বা অস্বাভাবিক ছোট আকারের মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মাইক্রোসেফালিতে আক্রান্ত ৪৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শিশুর দেহে জিকা ভাইরাস পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জিকা ভাইরাস সংক্রমণ ঘটায় না। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হলে যে ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়, এক্ষেত্রেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। সেই সঙ্গে ত্বকে দাগ দেখা দেয়।

Facebook Comments