তীব্র শীতে ঠাকুরগাঁওয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

ঠাকুরগাঁও: কয়েকদিনের অব্যাহত তীব্র শীতে ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের কারণে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আর এ অবস্থায় লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে শীতজনিত নানা রোগে। শীতে কর্মজীবী মানুষ ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছে না। তবুও কেউ কেউ শীতকে উপেক্ষা করে বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছে।

তবে কনকনে এ শীতে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের চেয়ে ছিন্নমূল মানুষকেই বেশি কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। এ শীতের মধ্যেও অনেককে খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে। এসব মানুষ সারা বছরই দুর্ভোগে থাকে। তবে শীত তাদের জীবনে বাড়তি দুর্ভোগ নিয়ে আসে। মাঝারি গতির বাতাস ও কুয়াশায় মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম জানান, কয়েকদিনের টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগ দেখা দিতে পারে। এমনকি শিশু ও বৃদ্ধদের এসময় রোগ-বালাই একটু বেশি হয়। সাধারণত শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ হাঁপানি, সর্দি, কাশি এবং শিশুদের কোল্ড ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।’

তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী গরম থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ সময়ে একটু বেশি করে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন।

এদিকে চলমান শৈত্য প্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁও। কনকনে ঠান্ডায় জেলার গ্রাম পর্যায়ের মানুষ কাবু হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতের প্রকোপে এখানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন থমকে গেছে। কনকনে ঠান্ডার কারণে অসহায় হয়ে পড়ছে দরিদ্র মানুষ। ঠান্ডা বাতাস শরীরে বিধছে বরফের ফুলকির মত।

সূর্যের তাপ না থাকায় লোকজন গরম কাপড় গায়ে ও মাথা মুড়ি দিয়ে রাস্তায় বের হয়। ছিন্নমূল মানুষকে রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে উত্তাপ নিতে দেখা যায়। সকাল থেকে ঠাকুরগাঁও অফিস-আদালত ও বাজারগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা যচ্ছে। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা।

অব্যাহত শীতের কারণে দেখা দিয়েছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের দেখা দিয়েছে কোল্ড ডায়রিয়াসহ নানা উপসর্গ। নদী এলাকার মানুষজন ও শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। শৈত্য প্রবাহের কারণে শীতকালীন ফসলের তির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী জানান, গত ২দিন থেকে জেলায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে শৈত্যপ্রহাব চলছে। বিশেষ করে আলু ক্ষেতে ইতিমধ্যে ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে।’

তিনি জানান, ‘কয়েক দিনের মধ্যে এই অবস্থার উন্নতি না হলে আলু ক্ষেতে পঁচন ধরে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হবে।’

বিশেষ করে, প্রচন্ড শীতের কারণে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। প্রতিদিনই হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুসহ, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ রোগী ভর্তি হচ্ছে।’

Facebook Comments

Leave a Reply