‘একেক রাতে একশ করে সৈনিককে হত্য করেছে জিয়াউর রহমান’

বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানানো খালেদার ‘তামাশা’হীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়াকে জাতির সঙ্গে ‘তামাশা’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারী রাজাকার-আলবদরদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন খালেদা জিয়া। আজ তিনি বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে তামাশা করেছেন। কোন মুখ নিয়ে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্ম‍ৃতিসৌধে যান। তার লজ্জা হওয়া উচিৎ।’

সকাল ৮টার কিছু পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দেন ১০টা ২০ মিনিটে।
বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এমন অবস্থা তৈরি করেছিল, দেশের স্বাধীনতা আনাই যেন বিরাট অপরাধ। মুক্তিযুদ্ধটাই যেন অপরাধ।

“একেক রাতে একশ করে সৈনিককে হত্য করেছে জিয়াউর রহমান; যারা মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তান আমাদের বিজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছে জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে। তার স্ত্রী একই কাজ করছে।”

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই পাকিস্তানি বাহিনী ওই নিধনযজ্ঞ চালায়; তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার পর যেন বাংলাদেশ যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে- তা নিশ্চিত করা।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দুদিন আগে বুদ্ধিজীবী হত্যায় প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সদস্যরা।

সেই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত যে চারজনের সর্বোচ্চ সাজার রায় হয়েছে, তাদের মধ্যে একাত্তরের বদর কমান্ডার আলী আহসান মো. মুজহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে গত ২২ নভেম্বর; যিনি খালেদার মন্ত্রিসভায় ছিলেন।

যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীও ছিলেন খালেদা সরকারের মন্ত্রী। তার আপিলের রায় অপেক্ষমান রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, তাদেরকে যে মন্ত্রী বানায় সে কোন মুখে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। কিছু কিছু মুক্তিযোদ্ধাও তার সাথে যায়। তাদের লজ্জা থাকা উচিত। কোন মুখে যায়। নিজেদের যদি লজ্জা-শরম-ঘেন্না-পিত্তি থাকতো, তাহলে যেত না। ”
যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি ঘৃণা জানাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভনেত্রী বলেন, “বাংলাদেশের কোনো মানুষ যদি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায় তাদের ঘৃণা করবেন। তাদেরও বিচার যুদ্ধাপরাধীদের মত হবে। তারাও যুদ্ধাপরাধী।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নতি হয়। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বিএনপি সরকার তা বাতিল করে দেয়। খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদ দেন। কিন্তু আমরাই ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করি।’’

Facebook Comments

Leave a Reply