ঈদের পরে দেশজুড়ে সহিংসতা: নিহত ২, আহত ৩০ পুলিশ

goshtiএকুশেরআলো২৪ডেস্ক: ঈদের পর সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে গোষ্ঠীগত সহিংসতা। এতে এ পর্যন্ত দুই জন নিহত, আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক ব্যক্তি। আহতের তালিকায় রয়েছেন সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৩০ জন পুলিশ সদস্য।

এ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ শতাধিক  ব্যক্তি আহত হয়েছেন। নীলফামারীতে দুইপক্ষের সংঘর্ষে এহছানুল হক(৩৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। হবিগঞ্জে দুইপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় প্রতিবেশির ছুরিকাঘাতে সাজ্জাদ শেখ(২৮) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। পৃথক ঘটনায় একই জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় দুইপক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত ও কমপক্ষে ১৩টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ছয়বাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ শতাধিক  আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়। পুলিশ এ ঘটনায় ২০ জনকে আটক করেছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সকালে গোকর্ণ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের শহরের কালিবাড়ি মোড়ে অটোরিকশায় যাত্রী ওঠানো নিয়ে ছয়বাড়িয়া গ্রামের চালক নায়েব মিয়া (৩২) ও গোকর্ণ গ্রামের চালক মোর্শেদ মিয়ার (৩৫) মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে হাতাহাতি হয়।

এর জের ধরে গোকর্ণ ও পার্শবর্তী আমিনপুর গ্রামের বাসিন্দারা টোঁটা, বল্লম, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছয়বাড়িয়া গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। সকালে ১১টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী উভয় গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোকর্ণ-আমিনপুরের বাসিন্দাদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা উল্টো পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পুলিশও এ সময় রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে।

এ সময়ে ইটপাটকেলের আঘাতে সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম বকাউল, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রব ও শহর উপরিদর্শক মো. বেলাল হোসেন আহত হয়েছে।

টেটাবিদ্ধ হয়েছে রাসেল মিয়া (২৮) ও জলিল মিয়া নামক দুই পুলিশ। আহত দুই কনস্টেবলকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুই কনস্টেবল গুরুতরসহ আট/দশ পুলিশ সদস্য ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

নীলফামারী

শনিবার সকাল ১১টার দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে এহছানুল হক(৩৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের শামসুল হকের সাথে ইয়াসিন আলীর জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সকালে ইয়াসিন আলীর ছেলে এহছানুল জমিতে হাল চাষ করতে গেলে শামসুল হক ও তার লোকজন তাকে মারপিট করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এতে এহছানুল হকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মারাত্মক আহত এহছানুল হক রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল হক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে।

হবিগঞ্জ

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিনসহ(৪৫) অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় লাখাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাঞ্চন দেবকে (৪০) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পুলিশ কনস্টেবল মুখলিসুর রহমানকে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া  আহত আনিস (২৬), হিরণ (৫০), অলি (২৮), মাসুক (৪৫), মুকন (২৬), মোয়াজ্জেম (২৮), সোয়াব আলী (৫৬), মোশাহিদ (২৮), লাল (২৯), কামরুল (২৬), উজ্জল (৩০) ও আজিজসহ (২৬) উভয়পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেঘরিয়া গ্রামের ইংল্যান্ড প্রবাসী নাসির উদ্দিনের সাথে একই গ্রামের লাখাই উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন্নাহার বেগমের জমি সংক্রান্ত বিরোধ অনেকদিনের।

এরই জের ধরে দুপুরে  উভয়পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ও ফিকলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাঞ্চন দেব, পুলিশ কনস্টেবল মুখলিছুর রহমানসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন।

এ ব্যাপারে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

খুলনা

Farhad case
মো: ফরহাদ শেখ

খুলনা লবনচরা বেড়িবাঁধ এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় এক কিশোরের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত ওই কিশোরের নাম ফরহাদ শেখ(১৬)। ঈদের দিন শুক্রবার বেলা আনুমানিক সাড়ে ৩টায় নগরীর ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্কে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ইজিবাইকে উঠার পরপরই সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায় বলে জানা যায়।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মো: ফরহাদ শেখ নামে ওই কিশোর বেল্লাল, মনিরুল ও আরজু নামের ৩ বন্ধুর সাথে পার্কে যাওয়ার সময় ফরহাদের সঙ্গীয় বন্ধুদের সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সুজন ও রায়হানসহ ১০/১২ জনের একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে নিরপরাধ ফরহাদ শেখ গুরুতর আহত হয়। এসময় সন্ত্রাসী গ্রুপের উপর স্থানীয়রা চড়াও হলে সন্ত্রাসীরা একটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। খুলনা সদর থানা পুলিশ মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে গেলেও তাৎক্ষনিকভাবে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এদিকে ফরহাদ বর্তমানে খুলনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তার বুক ও মাথায় প্রচন্ড আঘাতের কারনে রবিবার তার মস্তিষ্কের স্ক্যানিং ও বুকের এক্সরে করা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।
মাগুরা

শুক্রবার রাতে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামে টেলিভিশন দেখাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশির হামলায় বিনোদ শেখের ছেলে সাজ্জাদ শেখ(২৮) খুন হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামে সাজ্জাদের বাড়িতে টেলিভিশন দেখছিল প্রতিবেশি রইস মিয়ার মা, স্ত্রী ও ছেলে মেয়েরা। এক সময় অনেক রাত হয়ে গেছে জানিয়ে তাদের বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য বললে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

এক পর্যায়ে সাজ্জাদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে রইস। গুরুতর আহত অবস্থায় সাজ্জাদকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে শনিবার সকাল ৮টার দিকে জেলার মহম্মদপুর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত ও কমপক্ষে ১৩টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  অনেকদিন ধরে শিবরামপুর গ্রামে মৃধা গোষ্ঠী ও মোল্লা গোষ্ঠীর মধ্যে গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে মোল্লা গোষ্ঠীর বানানো শহীদ মিনার ভেঙে ফেলা নিয়ে মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা হয়।

সে সময় মৃধা গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয় ও কয়েকমাস হাজতবাস করেন। এ ঘটনার জের ধরে সকালে গ্রাম্য মাতবর আফাজ উদ্দিন মৃধার সমর্থকরা প্রতিপক্ষ আকতার মোল্লার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় মোল্লা গোষ্ঠীর সমর্থক রুহুল মোল্লাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনা নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের হামলায় কমপক্ষে ৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে খোকন মোল্লাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ও বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানার পর সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়ছে। এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

Facebook Comments