সরিষাবাড়ী পাটাবুগা মাদ্রাসায় সংঘর্ষে আহত ১০

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাটাবুগা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনায় শনিবার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।

এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের সরিষাবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে এলাকাবাসীর প্রতিরোধে, সাংবাদিক ও ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে উপজেলা প্রশাসন নির্বাচন বন্ধ ঘোষনা করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর সূত্রমতে, শনিবার সকাল ১১টায় পাটাবুগা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন শুরু হয়।

নির্বাচনে স্থানীয় প্রভাবশালী কুচক্রি মহলের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের চাপ প্রয়োগ, ভোটার ও প্রার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অনিয়মের মাধ্যমে জয়ী হওয়ার বিভিন্ন অপচেষ্টার অভিযোগ উঠে।

এ নিয়ে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করলে এলাকাবাসী ও ভোটাররা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হলে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মাদ্রাসার সুপার আইউব আলী যোগসাজশে তাদের পছন্দনীয় প্যানেলের পক্ষে ভোট দিতে ভোটারদের জোর করেন।

এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মাদ্রাসার সভাপতি মোজাম্মেল হক রঞ্জুর নেতৃত্বে তার লোকজন সাধারন ভোটার ও সমর্থকদের উপর দফায় দফায় হামলা চালায়।

এতে সাধারন প্রার্থীদের সমর্থক বলারদিয়ার গ্রামের আ. হাকিম মন্ডলের ছেলে আমজাদ হোসেন (৩০), আনোয়ার হোসেনের ছেলে রবিন মিয়া (২১), তার স্ত্রী রাবেয়া (১৯), রায়দেরপাড়ার হাফিজুর রহমানসহ (৩৫) অন্তত ১০ জন আহত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্লোরা বিলকিস জাহানের নির্দেশে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করেন।

পোগলদিঘা ইউপি চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন, মেম্বার রেহান আলী, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় জরুরী বৈঠক বসে পরবর্তীতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

এ ব্যাপারে নির্বাচন কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও‘র নির্দেশে নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে।’

Facebook Comments

Leave a Reply