সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন মামুনুল

বাংলাদেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন মামুনুল ইসলাম। গত মৌসুমে পারিশ্রমিকের দিক থেকে এগিয়ে থাকা এ মিডফিল্ডারকে নিয়ে ফুটবল মহলে যে রকম আগ্রহ তৈরি হয়েছে তাতে সে রকমই ইঙ্গিত মিলছে।

আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবলের দলবদল, এই লক্ষ্যে মাঠে নেমে পড়েছে বড় দলগুলো। তাই হিমেল হাওয়াতেও ফুটবল অঙ্গনে বাড়ছে উত্তাপ।

আন্তর্জাতিক সাফল্যে ফুটবল পিছিয়ে থাকলেও ঘরোয়া ফুটবলে ভীষণ আদরণীয় ফুটবলাররা। মাঠে দর্শকের ভাটার টান হলেও ফুটবলারদের বাজার চড়া। তার একটি বড় কারণ হলো, চট্টগ্রাম আবাহনীর বড় দল হওয়ার ইচ্ছা জেগেছে। পরাশক্তির কাতারে আছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ও রানার্স-আপ শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র, ঢাকা আবাহনী ও ঢাকা মোহামেডান।

গতবার নবম স্থানে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনী শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় পর থেকে তাদের স্বপ্নে নতুন রং লেগেছে। সুবাদে আগামী ফুটবল মৌসুম আরো জমজমাট হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ জন্যই তারা দেশের সেরা ফুটবলার মামুনুল ইসলামকে দলে ভেড়াতে মরিয়া। বাংলাদেশ দলের এ অধিনায়ককে নিয়ে ত্রিমুখী লড়াইয়ের কথা শোনা গিয়েছিল মাস তিনেক আগে।

শেখ জামাল ধানমণ্ডি থেকে তাকে ছিনিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল রানার্স-আপ শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ও চট্টগ্রাম আবাহনী। দৌড়ে দুই দল এখনো আছে সমানভাবে। তবে দলবদলকে লক্ষ্য করে শেখ রাসেল নীরবে এগোনোর কৌশল নিয়েছে।

তুলনায় চট্টগ্রাম আবাহনীর সরব উপস্থিতি। আবার শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবও হাতছাড়া করতে চাইছে না দেশের সেরা মিডফিল্ডারকে। ত্রিমুখী লড়াইয়ে জিতবে কে?

অনেকে তাকে চট্টগ্রাম আবাহনীতে নাম লিখিয়ে দিলেও মামুনুল বলছেন অন্য কথা, ‘তিনটি বড় ক্লাব আমার সঙ্গে কথা বললেও এখনো কাউকে সম্মতি দিইনি। আমার বর্তমান ক্লাব শেখ জামাল থেকে ১২ লাখ টাকা বুঝে পাওয়ার পর আমি নতুন মৌসুমের দল নির্বাচন করব।’

জামালকে গত মৌসুমে লিগ ও ফেডারেশন কাপ জেতানো এই মিডফিল্ডারের ক্ষোভ, ‘শেখ জামাল কখনো খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বকেয়া রাখে না। কিন্তু বর্তমানে এ জন্য দায়ী সাবেক এক জাতীয় ফুটবলার এবং জামালের ম্যানেজার, তাদের কারণেই আজ চ্যাম্পিয়ন দল সম্পর্কে খেলোয়াড়দের মধ্যে বাজে ধারণা তৈরি হচ্ছে।’

তিনি শেখ জামাল ছাড়তে না চাইলেও এক সাবেক তারকা ফুটবলার ও ম্যানেজারের কারণে মনটা তার বিষিয়ে গেছে। এই দুজনের কারণেই শেখ জামালে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বকেয়া পড়েছে বলে তার বিশ্বাস। এটা বিক্ষুব্ধ মামুনুলকে অন্য দলে চলে যেতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

যেটুকু খবর, চট্টগ্রাম আবাহনীর ৫৫ লাখ টাকার প্রস্তাবে এখনো সায় দেননি জামালের এই মিডফিল্ডার। একটু ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন তিনি। এ কথা শোনা গেছে চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিনের মুখেও, ‘মামুনুলের সঙ্গে আলাপ চলছে। কোনো সন্দেহ নেই সে এখন দেশের সেরা ফুটবলার, তাকে সবাই নিতে চাইবে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

গত মৌসুমে মামুনুল ইসলাম শেখ জামালে থেকে গেছেন ৪৫ লাখ টাকা পরিশ্রমিক নিয়ে। এবার সেটা বেড়ে এখন ৫৫ লাখ টাকায় পৌঁছালেও মামুনুল চাইছেন ৬০ লাখ টাকা। দুটি অঙ্কের একটি হলেও এবারও এই মিডফিল্ডার হয়ে যাবেন দেশের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের ফুটবলার। এবং পেশাদার ফুটবলে এটা হবে নতুন রেকর্ড।

তার শেখ জামাল ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও এরই মধ্যে ডিফেন্ডার রায়হান হাসান, মিডফিল্ডার সোহেল রানা ও মোনায়েম খান রাজু চট্টগ্রাম আবাহনীতে নাম লিখিয়েছেন।

এ ছাড়া ব্রাদার্স ইউনিয়ন থেকে গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য ও উইঙ্গার শরীফুল ইসলাম এবং মোহামেডানের তরুণ ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম, আরমান আজিজ, নুরুল নাইম ফয়সাল ও আশরাফুল ইসলাম রানা যোগ দিয়েছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যদিও চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল কমিটির প্রধান অস্বীকার করেছেন, ‘কথাবার্তা অনেকের সঙ্গে চলছে, তবে দলবদল শুরুর আগে চূড়ান্ত করে কারো কথা বলা কঠিন। তবে অভিজ্ঞ ও তরুণদের নিয়ে এমন একটি দল গড়ার চেষ্টা করছি, যার ট্রফি জেতার ক্ষমতা থাকবে।’ সূত্র: কালের কণ্ঠ

Facebook Comments

Leave a Reply