মিম ও সোহমের ‘ব্ল্যাক’ তদন্তের মুখে

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে জমা পড়েছে যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘ব্ল্যাক’। মিম ও সোহম অভিনীত এ ছবির বিরুদ্ধে যৌথ-প্রযোজনার নীতিমালা না মানার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার তথ্যমন্ত্রণালয় ‘ব্ল্যাক’ ছবিটি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছে।

যৌথ-প্রযোজনার ছবিগুলোতে প্রতারণা করা হচ্ছে- এমন সংবাদ এরইমধ্যে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু আমলে নেননি কেউই। গত ২৮ অক্টোবর এনটিভি অনলাইনে ‘ব্ল্যাক’ কি যৌথ ‘প্রতারণা’র ছবি? শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম নেয়। বিষয়টি নিয়ে এবার মাঠে নামছে তথ্যমন্ত্রণালয়। যৌথ-প্রযোজনার নামে নির্মিত ছবিগুলো সঠিক নীতিমালা অনুযায়ী নির্মিত হচ্ছে কি না সেটাই তদন্ত করে দেখবে তারা।

image

এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র শাখার যুগ্ম সচিব গৌতম কে. ঘোষ বলেন, ‘একাধিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আমরা জেনেছি যে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে নিয়ম মানা হচ্ছে না। আমরা এ বিষয়ে কঠোরভাবে তদারকি করব। চলতি মাসের ১৫ তারিখ ‘ব্ল্যাক’ ছবিটি সেন্সর বোর্ডে জমা পড়েছে। এই ছবির বিরুদ্ধেও নীতিমালা না মানার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে আমরা ছবিটি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছি যে অভিযোগ সত্য কি না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর এনটিভি অনলাইনে প্রকাশিত “‘ব্ল্যাক’ কি যৌথ ‘প্রতারণা’র ছবি?” শিরোনামের নিউজে বলা হয়েছিল ,

‌সম্প্রতি কলকাতায় মুক্তি পাওয়া ‘ব্ল্যাক’ ছবির টিজারে দেখা যায়, যৌথ প্রযোজনার ছবি হলেও এতে দুই দেশের দুই পরিচালকের নাম নেই। যদিও নীতিমালা অনুযায়ী দুজনের নামই থাকার কথা ছিল। এমনকি দুই প্রযোজকের নামও উল্লেখ করা হয়নি চলচ্চিত্রের প্রচারে।

চলতি বছর ১৫ জুন ঢাকায় এক আড়ম্বরপূর্ণ মহরতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘ব্ল্যাক’ ছবির কাজ। শুরুতে ছবিটির নাম ‘রকেট’ রাখা হলেও পরে নাম পাল্টে হয় ‘ব্ল্যাক’। ছবির মহরতে অংশ নিতে প্রথমবার ঢাকায় আসেন কলকাতার নায়ক সোহম চক্রবর্তী। ‘ব্ল্যাক’-এ তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রথম যৌথ প্রযোজনার ছবিতে নাম লেখান বিদ্যা সিনহা মিম। মিম ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশের শিল্পী নেই ছবিটিতে।

ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে বাংলাদেশের কিবরিয়া ফিল্মস ও কলকাতার দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়া। যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা মেনে বাংলাদেশে ছবিটির শুটিং হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ভারত ও ব্যাংককেই সীমাবদ্ধ থাকে ছবির শুটিং। বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ নীতিমালা-২০১২ (সংশোধিত)-এর ৬ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে, ‘এ ক্ষেত্রে ( যৌথ প্রযোজনা) প্রতি দেশের শিল্পী ও কলাকুশলীর সংখ্যানুপাত সাধারণভাবে সমান রাখতে হবে। একইভাবে চিত্রায়ণের লোকেশন সমানুপাতিক হারে নির্ধারণ করতে হবে।’

Facebook Comments

Leave a Reply