শখ থেকেই পেশা : ফারজানার মেহেদী পার্লার

Farzana Nijhu

একুশের আলো ২৪ ডেস্ক : বিয়ে বাড়ির ব্যস্ততা, চারিদিকে দৌড়াদৌড়ি-হইচই। প্রত্যেকের হাতেই বড় বড় দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব নিয়েই ছোটাছুটি চলছে দিনভর। বিয়ের অনুষ্ঠানটা যাতে সুন্দর হয় সেই প্রচেষ্টা সবার। পুরো বাড়ি জুড়ে দৌড়াদৌড়ি থাকলেও ধীর লয়ে শান্ত মনে কাজ করে যাচ্ছেন একজন শিল্পী। মেহদীর শিল্পী তিনি। বিয়ে বাড়িতে কনের হাত রাঙ্গানোর দায়িত্ব তার কাঁধে। মেহদী রাঙ্গানো হাত ছাড়া কনেকে যেহেতু মানায় না, তাই তার কাজের গুরুত্বটাও বেশী।

বলছিলাম ফারজানা আহমেদ নিঝুর কথা। ছোট বেলা থেকেই মেহদী হাতে লাগিয়ে বসে থাকাই যার শখ। মায়ের বকা-ঝকাও যার শখ থেকে দূরে সরাতে পারেনি, তিনি যে তার এলাকার মধ্যে নাম করা একজন মেহদী ডিজাইনার হবেন এমনটা যেন বলেই দেওয়া যায়। লেখাপড়া করেছেন ম্যাথমেটিক্স নিয়ে, কিন্তু পেশায় বর্তমানে মেহদী ডিজাইনার। অংকের কাঠখোট্টা প্যাচের মত নয় তার ডিজাইন, তার ডিজাইন হয় সুন্দর, সাবলীল, মনমুগ্ধকর।

 

 

 

শখ থেকে পেশা, শুরুটা ২০১৩ এর দিকে। তার করা ডিজাইন যখন পরিবারের গন্ডি পেরিয়ে বন্ধু মহলে, বন্ধু মহল থেকে ছড়িয়ে এলাকায়, এলাকা ছড়িয়ে আশেপাশে সবার মুখে, তখনই সিদ্ধান্ত নেন এটিকেই পেশা হিসাবে গ্রহণ করবেন। এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষের হাত রাঙ্গানোর দায়িত্ব পড়েছে তার হাতে। গায়ে হলুদ, বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা সহ প্রায় সব রকম অনুষ্ঠানেই এখন তার ডাক পড়ে।

বন্ধু মহলে তার যেমন প্রশংসা, গ্রাহকের কাছে সেই প্রশংসার এতটুকু কমতি নেই। তিনি তার ব্যবসার প্রচার প্রসারের জন্য খুলেছেন নিজেস্ব ফ্যান পেইজ, নাম Farzana’s Mehandi। সেখানে গেলেই দেখা যায় তার ডিজাইনের ভক্তদের মন্তব্য, তার গ্রাহকদের মন্তব্য। সকলেই অভিভূত তার হাতের কাজে।

কথা হচ্ছিলো তার সাথে, তিনি জানালেন, “আমি কাজ করি নিজের মন থেকে। প্রতিটি কাজই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানি আমার করা একটা সুন্দর ডিজাইন শুধু একজনের নয়, সবার মন ভালো করে দিবে। সবার আনন্দের ভাগিদার হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হয়। একজনের হাতে মেহদী দিয়ে যখন তার মনের মধ্যে থেকে ধন্যবাদ পাই, তার পরিচিত জনেরা উচ্ছাস প্রকাশ করে, মনে হয় আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে।”

ফারজানা আরও জানান তার শখ থেকে আসা এই পেশাটিতেই তিনি ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে চান।

ak hathand Mehandi

Bariye Dao Tomar Hat

Facebook Comments

Leave a Reply