মেট্রোরেলের ফিজিক্যাল ওয়ার্ক ফেব্রুয়ারিতে শুরুঃ সেতুমন্ত্রী

kaderনিজস্ব প্রতিবেদক : সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাপানের সহায়তায় মেট্রোরেল বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিয়েছি। উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত মেট্রোরেল স্থাপনের ৮টি প্যাকেজের মধ্যে ৬টির দরপত্র ইতিমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, মেট্রোরেলের ফিজিক্যাল ওয়ার্ক ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে।

বুধবার সকালে সিরডাপ মিলনায়তনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর ও পাশের জেলাগুলোর পরিবহণব্যবস্থা সমন্বয়ে গৃহীত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার (এসটিপি) খসড়া উপস্থাপন এবং এর ওপর মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় সরকার এবং দায়িত্বশীল সকল প্রতিষ্ঠান সদা তৎপর ও আন্তরিক। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাপান কনস্যুলার এবং জাইকার প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, কিছু ঘটনা ঘটেছে, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব স্বাভাবিক। আপনারা সম্পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে আছেন।

মেট্রোরেল প্রকল্প সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আটটি প্যাকেজে ভাগ করে মেট্রোরেল প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুটি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট প্যাকেজগুলোর দরপত্র আহ্বানের কাজ শেষ হবে।

তিনি বলেন, সামাজিক সূচক, অর্থনৈতিক সূচকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও উন্নত। কিন্তু আমাদের রাজধানী হিসেবে ঢাকা এখনো পরিকল্পিত নগরী হতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, জনজট, জলজট ও যানজট- এই তিন সমস্যায় ঢাকা আক্রান্ত এবং জর্জরিত। এই অবস্থান অবসান করতেই এসটিপি গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নয়নে গৃহীত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংশোধিত আরএসটিপিতে মেট্রোরেলের পাঁচটি রুট, দুটি বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট), ঢাকা মহানগরীকে ঘিরে বৃত্তাকার তিনটি রিং রোড এবং ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে ফার্মগেট অংশের কাজ আগামী ২০১৯ সাল এবং ফার্মগেট থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের কাজ ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হবে।

তিনি বলেন, শুধু এ কয়টা (মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে) করেই যানজটের সমাধান পাওয়া যাবে না। আমি জাপানে আরো দুটি এমআরটি লাইনের প্রস্তাব নিয়ে গেছি। একটি এমআরটি লাইন-১, আরেকটি এমআরটি লাইন-৫। তারা (জাইকা) পজিটিভলি রেসপন্স করেছে। তারা বলেছে, ফিজিবিলিটি স্টাডির (সম্ভাব্যতা যাচাই) কাজ প্রক্রিয়াধীন। যত শিগগিরই সম্ভব তারা কাজ শুরু করবে।

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)-১ এর দৈর্ঘ্য হবে ২৮ কিলোমিটার। এর রুট হবে এয়ারপোর্ট-খিলক্ষেত-ভাটারা-বাড্ডা-রামপুরা-খিলগাঁও কমলাপুর। পূর্বাচলও এর সঙ্গে যুক্ত হবে। অপরদিকে এমআরটি-৫-এর দৈর্ঘ্য হবে ১৩ কিলোমিটার। এর রুট হবে গাবতলী-দারুস সালাম-মিরপুর (১)-মিরপুর (১০)-কচুক্ষেত-বনানী (কামাল আতাতুর্ক)-ভাটারা। এর মধ্যে কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ থেকে ভাটারা পর্যন্ত সড়কটি হবে আন্ডারগ্রাউন্ড।

মন্ত্রী এ সময় সম্প্রতি জাপান সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সফরে জাপানের শীর্ষ ২০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে মতবিনিময় হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ কতটুকু, আমাদের টেন্ডার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, এগুলো নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। আরেকটি বিশেষ প্রস্তাব নিয়ে গেছি- যমুনা নদীর নিচ দিয়ে ১৩ কিলোমিটারের মতো একটি টানেল নির্মাণ করা। যেটা এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে কানেকটিভিটিতে ভূমিকা রাখবে। আমাদের বিবিআইএন প্রজেক্টও (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল সড়ক যোগাযোগ চুক্তি) সম্প্রসারণে সুবিধা হবে।

তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে আমাদের উত্তর জনপদের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার কানেকটিভিটি আরো সুদৃঢ় করতে পারব এটি। সে জন্য এ টানেলটির প্রস্তাব আমরা তাদের দিয়েছি। তারা বলেছে, এটার একটা স্টাডি প্রয়োজন, কারণ এটা অনেক দীর্ঘ টানেল। তারা এ বিষয়ে স্টাডি করে রেসপন্স করবে।

Facebook Comments

Leave a Reply