USAID ক্যাম্পেইন “সুন্দরবন মায়ের মতন” এর দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধন

Bagh Team মেহনাজ কবীর লিপু , ম্যানেজিং এডিটর : USAID এর বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন “সুন্দরবন মায়ের মতন” এর দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধন হয়ে গেল খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে। রবিবার অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পেইনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “আমরাই বাঁচাবো সুন্দরবন”। সুন্দরবনের ২২টি ওয়ার্ডে ২৩০টি ইভেন্টের মাধ্যমে ৩০হাজার জনগণকে সম্পৃক্ত করে বাঘ রক্ষার্থে সচেতনতা বৃদ্ধি এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য।

বাঘ শিকার, গ্রামে চলে আসা বাঘ হত্যা ও বাঘের প্রধাণ খাবার হরিণের চোরা শিকার – সুন্দরবনের বাঘের জন্য প্রধাণ এই ৩টি হুমকি নির্মূল করে দেবার অন্তহীন প্রয়াস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ওয়াইল্ডটিম। তাদের সোস্যাল মার্কেটিং তত্ত্ব থেকে জানা যায়, বাঘের জন্য হুমকিসমূহ প্রকৃতপক্ষে মানুষের আচরণের সাথে সরাসরি জড়িত। মানুষের এই আচরণে পরিবর্তন আনতেই ওয়াইল্ডটিম ৫ বছর মেয়াদী সামাজিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। তাদের মূল লক্ষ্য, সুন্দরবনের বাঘ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা যেন আরো বেড়ে যায়। ওয়াইল্ডটিমের সোশ্যাল মার্কেটিং তত্ত্বের কৌশল নিহিত আছে ৩টি বিষয়ের উপর।

প্রথমত শিক্ষা, যা উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।স্বল্প শিক্ষিত মানুষের জন্য “বাঘ প্রমো” ভিডিও ক্লিপ উপস্থাপনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ওয়াইল্ডটিম তাদের দক্ষতার চমৎকার দেয়। “বাঘবন্ধু”দের স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে পরিচয় করিয়ে দেয়া, প্রাপ্ত বয়স্ক নারী, পুরুষ এবং শিশুদের গণপ্রচারনা তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য প্রধাণ কিছু উদ্যোগ।

দ্বিতীয়ত আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ।অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় কমিউনিটির সদস্য বাঘবন্ধু, ভিটিআরটি এবং সিএমসির বক্তব্য থেকে পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়, শুধু জনগণ সচেতন থাকলেই হবে না; প্রশাসনকেও তৎপর থাকতে হবে।বাংলাদেশের বন আইনের ধারাগুলির সুষ্ঠু প্রয়োগ হলে এবং যারা নিয়মিত বাঘ শিকারের সাথে স্বক্রীয়ভাবে জড়িত, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।এক্ষেত্রে অবশ্য ওয়াইল্ডটিমের “বাঘ হটলাইন” এর ভুয়সী প্রশংসা না করে পারা যায়না। ০১৭৪১১৯৮৮৮২ নম্বরে কল করে বাঘ শিকারীর তথ্য বলে দিলেই সকল মহল থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যবস্থা তারা রেখেছে।তাছাড়াও বাঘ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য জানা গেলে তা এই হটলাইনে কল করে জানানো যাবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত খুলনার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান তাঁর পক্ষ থেকে বাঘ রক্ষার ব্যাপারে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ওয়াইল্ডটিমের সোশ্যাল মার্কেটিং তত্ত্বের তৃতীয় এবং অত্যন্ত কার্যকরী কৌশল হিসেবে রয়েছে মানুষের বিকল্প আয়ের উৎস খুজে বের করা এবং সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের অধিকাংশকেই সেই বিষয়ে উৎসাহিত করা।এ বিষয়ে অবশ্যই সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগ একান্ত কাম্য।খুলনা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খান মাহবুব তাঁর আওতায় থাকা সুন্দরবনের খুলনা অংশের বেকার এবং সুন্দরবন নির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প আয়ের উৎস তৈরী করার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

Boat Exibition এবং Boat Chain হচ্ছে ওয়াইল্ডটিম ক্যাম্পেইনের আকর্ষনীয় অংশ।যেখানে তাদের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে থাকবে নদীর কাছে বসবাসরত মানুষদের নিকট পৌছানো ও সুন্দরবন রক্ষায় প্রতিশ্রুতি আদায় আরো জোরদার করা।জাতীয় পর্যায় দৃষ্টি আকর্ষন করা এবং জাতীয় পর্যায়ের সংবাদ মাধ্যমকে যুক্ত করা ক্যাম্পেইনের সর্বশেষ অংশ।

২০০৪ সালের বাঘশুমারী অনুযায়ী প্রাপ্ত বাঘের সংখ্যা ৪৪০ থেকে মাত্র ১০ বছরে ১০৬ এ নেমে আসায় অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান।শহরে বসবাসকারী মানুষের তুলনায় সুন্দরবনের নদী খাল তীরবর্তী মানুষের কাছে বাঘ সংরক্ষণের ব্যাপারে গণসচেতনতা তৈরী করতে পারলেই ওয়াইল্ডটিমের “আমরাই বাঁচাবো সুন্দরবন” ক্যাম্পেইন সার্থক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সুন্দরবন থেকে প্রায় বিলুপ্ত হতে যাওয়া বাংলাদেশের গর্ব বাঘ রক্ষার জন্য ২০১০ সাল থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ২০১২ সাল থেকে মূল ক্যাম্পেইন চালু করা ওয়াইল্ডটিমের সর্বস্তরের সকল উদ্যোগ সফল হলেই আমাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে।

Facebook Comments

Leave a Reply