ক্যাম্প ন্যুতে বার্সার গোল উৎসব

Messiস্পোর্টস ডেস্ক : স্প্যানিশ লা লিগায় নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে নামে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। গত মৌসুমের ট্রেবল জয়ী লুইস এরিকের শিষ্যদের বিপক্ষে আতিথ্য নেয় লেভান্তে। ম্যাচে ৪-১ গোলের জয় পায় বার্সা। আর এ জয়ের পরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠল কাতালনরা।
বার্সার হয়ে প্রথমার্ধে কেউই গোল আদায় করতে পারেননি। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় কাতালানরা। বিরতির পর লেভান্তের জালে কাতালানরা চারবার বল জড়িয়ে দেন। দলের হয়ে গোল করেন বারত্রা, নেইমার ও মেসি। এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের স্বাদ নিতে পারতেন মেসি। দ্বিতীয় পেনাল্টির সুযোগ থেকে গোল আদায় করে নিতে পারলেই হ্যাটট্রিক হয়ে যেত আর্জেন্টাইন তারকার। লেভান্তের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ভিক্টর।
এ ম্যাচে লুইস এনরিক তার শিষ্যদের ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলান। শুরুর একাদশে বার্সার হয়ে মাঠে নামেন টার স্টেগেন, দানি আলভেজ, বারত্রা, মাশচেরানো, আদ্রিয়ানো, বাসকুয়েটস, ইভান রেকিটিচ, মুনির আল হাদ্দাদি, লিওনেল মেসি, সান্দ্রো এবং নেইমার।
ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় ক্যাম্প ন্যু’র উপস্থিত দর্শকরা মেসির পায়ের জাদু দেখতে পান। প্রথম থেকেই আক্রমণের পশরা সাজিয়ে বসা কাতালানদের হয়ে প্রথম শট নেন মেসি। লেভান্তের ডিফেন্সে বাধা পেয়ে বল ফিরে আসলে ফিরতি বলেই আবারো শট নেন আর্জেন্টাইন তারকা। তবে, প্রস্তুত থাকা লেভান্তের গোলরক্ষক রুবেনের দৃঢ়তায় এ যাত্রায় কোনো গোল হতে দেয়নি অতিথিরা।
১৮ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মেসির বাঁকানো নেওয়া শটটি লেভান্তের গোলপোস্টের কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়।
অতিথিদের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখা মেসি বাহিনী ২২ মিনিটের মাথায় একটি দলবদ্ধ আক্রমণ চালায়। তবে, প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে নেইমারের বাড়ানো বলের গতিতে স্বাগতিক কোনো ফুটবলার নাগালের মধ্যে যেতে পারেননি। ৩০ মিনিটে মুনির আল হাদ্দাদির দারুণ এক প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন লেভান্তের গোলবারের নিচে দায়িত্ব পালন করা রুবেন।
বল দখলের লড়াইয়ে বার্সার বিপক্ষে অতিথি দলটি টিকতে না পেরে লম্বা পাসে খেলতে থাকে। আলভেজ-মাশচেরানোর মতো ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে রজার বল নিয়ে কাতালানদের ডি-বক্সে ঢুকে পড়লেও শট নেওয়ার আগে অফসাইটের খড়গে হতাশ হন।
৩৫ মিনিটের মাথায় মেসি-সান্দ্রোর ওয়ান-টু-ওয়ান পাসে গোলের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে স্বাগতিকরা। মেসি থেকে সান্দ্রোর পাঁ হয়ে আবারো মেসির পায়ে বল গেলে জোরালো শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রস্তুত থাকা রুবেন তা ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলে শট নেন সান্দ্রো। তবে, সেটি গোলবারের বাইরে দিয়ে বেড়িয়ে যায়।
৩৭ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে থেকে নেইমার শট নেন। তার শটটি এক ডিফেন্ডারের মুখে লেগে দিক পরিবর্তন করে। পরের মিনিটে আলভেজের উড়িয়ে মারা বলে হেড করেন মেসি। রুবেনের নাগালের বাইরে দিয়ে বল চলে গেলেও তা পোস্টের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৪৪ মিনিটে বাসকুয়েটসের বাড়ানো বলের নাগাল পান মেসি। তবে, এবার মেসিকে রুবেন নন রুখে দেন ভারজা। ইউরোপ সেরার মেসিকে টেনে ধরে ডি-বক্সেই প্রবেশ করতে দেননি তিনি। নয়তো ফাঁকা ডি-বক্সে শুধু রুবেনকেই পেতে পারতেন মেসি।
প্রথমার্ধ শেষে কোনো গোল না হলে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় বার্সা। গোলের দেখা পেতেও বেশি দেরি হয় নি কাতালানদের। ম্যাচের ৫০ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন বারত্রা। অতিরিক্ত মিডফিল্ডার হিসেবে দলকে সমর্থন দেওয়া বারত্রা মেসির থেকে উড়ন্ত বল পেয়ে বুক দিয়ে নিচে নামিয়ে নেন। এরপর শট নেন লেভান্তের গোলবার লক্ষ্য করে। আর তাতেই রুবেনের নাগালের বাইরে দিয়ে বল জালে জড়ায়। ফলে, ১-০ তে লিড নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সা।
৫২ মিনিটে মেসির আরেকবার বাড়ানো বলে পাঁ ছোয়াতে পারেননি নেইমার। ব্রাজিল অধিনায়ক পাঁ ছুঁইয়ে বলের দিকটি পরিবর্তন করলেই গোলের দেখা পেতে পারতেন। তবে, ৫৬ মিনিটে ঠিকই নেইমার গোলের দেখা পেয়েছেন। আলভেজের দারুণ এক ক্রসে বল পেয়ে নেইমার শট নেন। প্রথম প্রচেষ্টায় ডিফেন্সে বাধা পেলেও পরের শটে দলকে দ্বিতীয় গোলের দেখা পাইয়ে দেন। বার্সা এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।
এরপর লেভান্তের সীমানায় বারবার বল নিয়ে প্রবেশ করতে থাকে বার্সার ফুটবলাররা। ৬০ মিনিটের মাথায় নেইমার বল নিয়ে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে প্রবেশ করলে তাকে অবৈধ ট্যাকল করেন ট্রুজিলো। ফলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। আর তা থেকে গোল আদায় করে নেন মেসি। ৩-০ তে এগিয়ে যায় লুইস এনরিক শিষ্যরা।
৬৪ মিনিটে আরেকবার লেভান্তের জালে বল জড়িয়ে যায়। মুনির আল হাদ্দাদির শটে অতিথিদের জালে চতুর্থবার বল জড়ালেও তা অফসাইটের কারণে বাতিল ঘোষিত হয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে বার্সার গোলরক্ষক টার স্টেগেনের ভুলে গোল হজম করতে হয়েছিল বার্সাকে। এ ম্যাচেও কাতালান গোলরক্ষকের বাজে পারফর্মে গোল আদায় করে নেয় লেভান্তে। বামপাশ দিয়ে আক্রমণে যাওয়া লেভান্তের ভাজরা ম্যাচের ৬৬ মিনিটে বলের দিক পরিবর্তন করেন। শুধু শুধুই তা প্রতিহত করতে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি টার স্টেগেন। সেই সুযোগে বল পেয়ে যান ভিক্টর। আর তার জোরালো শটেই বার্সার জালে বল জড়িয়ে যায়।
৭৫ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় বার পেনাল্টি লাভ করে বার্সা। এবারে নিজেদের ডি-বক্সে মেসিকেই ফেলে দেন আতিথ্য নেওয়া লেভান্তের ডিফেন্ডার। এবারে পেনাল্টির সুযোগকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন মেসি। প্রথম পেনাল্টি থেকে দলকে গোল পাইয়ে দিলেও দ্বিতীয় পেনাল্টি শটটি আর্জেন্টাইন তারকা গোলবারের অনেক উপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন।
ম্যাচের ৯০ মিনিটের মাথায় বারত্রার অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় আর দলের চতুর্থ গোল আদায় করে নেন মেসি। চারজন ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে মেসির বামপায়ের জোরালো শট তাকে জোড়া গোল পূর্ণ করতে সহায়তা করে।
বাকি সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে, ৪-১ গোলের জয় নিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করে কাতালানরা। নিজেদের প্রথম চারম্যাচেই জয় পাওয়ায় সর্বোচ্চ ১২ পয়েন্ট নিয়ে বার্সা টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করল।

Facebook Comments

Leave a Reply