সৌন্দয্যের প্রতীক তালগাছ ॥এক পায়ে দাঁড়িয়ে

GABTALI.16.09 (2)আল আমিন মন্ডল, বগুড়া : গাবতলীতে হারিয়ে যাচ্ছে তালগাছ।।

তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সবগাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে…। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাঁকুর তালগাছের সৌন্দয্যে মুগ্ধ হয়ে কবিতাটি লিখেছিলেন। এদেশের সৌন্দয্যের প্রতীক ও সোভাবন্ধক তালগাছ। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে গাছটির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে সাধারনত পুরুষ ও স্ত্রী প্রজাতির তালগাছ রয়েছে। স্ত্রী প্রজাতির গাছে তাল ও রস পাওয়া যায়। এই রস সুস্বাদু ও মিষ্টি। রস দিয়ে তৈরি হয় গুড়। একে তাল পাটালী গুড় বলে। এছাড়াও কাঁটা তালের স্বাস খেতেও খুবই সুস্বাদু। তালস্বাস মানুষের গরমকে তৃপ্তি নিবারনে সহযোগিতা করে এবং স্বাস বিক্রি করে মৌসুমীকালিন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তালপাখা বিদ্যুৎতের অনুউপস্থিতে গরম নিবারনের জন্য চেষ্টা করা হয়। পাকাতাল দিয়ে ঐতিহ্যেবাহী ভদ্রমাসে তৈরী হয় তালপিঠা, পায়েস ও চিনিগুড়। আর মাসজুড়ে চলে জামাইবরন মহাউৎসব। এছাড়াও ঘরের চালের টিন, বাটালী ছাউনী তৈরী, বাটাম, তীর, কৃষকের লাঙ্গলের ঈশ, তালপাখা, জেলেদের মাছধরার ডোঙ্গা তালগাছ থেকে তৈরি করা হয়। কৃষক তালগাছ থেকে বেশী লাভবান হয়ে থাকে। গাছের কান্ডদিয়ে আধাপাকা ও মাটির তৈরীঘরের তীর হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তালগাছ দুরে থেকে বাড়ীর জায়গা নিধারন করে থাকে। হাজারো গাছের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু আকাশে উঁকি মেরে দাঁড়িয়ে থাকে গাছটি। গাছের ডালে ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখি বাসা বাঁধে। উপকারী গাছটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে ফসলের জমির মাঠে, বিলের ধারে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছের এমন দৃশ্য এখন কম চোখে পড়ে। অপরিকল্পিত ভাবে তালগাছ কাঁটার ফলে এখন গাছটি কালের বির্বতনে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই তালগাছের ডালে আর বাবুই পাখির বাসা বাঁধা মনকাড়া সৌন্দয্যের চিত্র চোখে পড়ে না। নানাগুণে গুননীত তালগাছ অর্থনৈতিক ভাবে সম্পদ। তালগাছ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা কৃষি অফিসার আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার জানান, কৃষি বিভাগের সাবিক সহযোগিতা ও কৃষকদের মাঝে তালগাছ রোপন প্রযুক্তিসহ তথ্য প্রদান করা হচ্ছে। তালগাছ পতিত জমিতে লাগানো যায়। জায়গা কম লাগে। কৃষক বেশী লাভবান হয়। কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা নাজমুল হক মন্ডল জানান, গাবতলীতে সবসময় তালগাছে ভাল ফলন হয়। তালগাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন কৃষকদের তালগাছের উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। গাবতলী উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা জুলফিকার আলী হায়দার জানান, তালগাছ একটি গুরুত্বপূর্ন গাছ। গাছটি মানুষের জন্য খুবউপকারী। ব্যক্তি পর্য়াযে তালগাছ সংরক্ষনে কৃষকদের মাঝে গনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সৌন্দয্যের দাবিদার তালগাছ। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) গাবতলী শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ মাহমুদুল আলম জানান, তালগাছ রোপন ও বাগান করতে কৃষকদের আগ্রহ থাকলে আবশ্যই এসএমই ঋান দেওয়া যেতে পারে। অথবা কর্তৃপক্ষের নিদের্শনা মোতাবেক অন্য কোন ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ঋান দেওয়া সম্ভাব। রাকাব সবসময় কৃষি ও কৃষকদের অর্থনৈতীক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তেমনি পল্লী গাঁয়ের সৌন্দয্যময় তালগাছগুলো রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ব্যক্তি, সংগঠন, সরকারী দপ্তরের বনবিভাগ ও বেসরকারী পর্য়াযে সংরক্ষন করতে জোরদাবী জানিয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষক ও পরিবেশ সচেতনমহল।

Facebook Comments

Leave a Reply