ইরানের পরমাণু চুক্তি শান্তিতে ভূমিকা রাখবে : বাংলাদেশ

Iran-BDবিশ্বের পরাশক্তিদের সঙ্গে সই করা ইরানের পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি, স্থিতি ও মানব কল্যাণে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।

ওই চুক্তি ইরানের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্যের সমাবেশ ঘটাবে এবং তা বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের সৌজন্য সাক্ষাতের পর আজ বুধবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আশাবাদ তুলে ধরা হয়েছে।

একদিনের সফর শেষে সন্ধ্যায় ঢাকা ছাড়ার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, সন্ত্রাসবাদ দমনে অভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করতে রাজি হয়েছে।

একদিনের সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিশেষ ফ্লাইটে বেইজিং থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে ব্রিফিং শেষে তিনি ইরান ফিরে গেছেন।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে আজ বুধবার সাক্ষাৎ​ করেন সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ। ছবি: ফোকাস বাংলাব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত জুলাইতে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু চুক্তি সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করতে তিনি এ সফরে এসেছেন।

বাংলাদেশে আসার গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে জাভেদ জারিফ বলেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদার মধ্যপন্থী মুসলিম দেশ। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমাদের এই সংগ্রামে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ আমাদের পাশে থেকেছে। তাই সমস্যা সমাধানের পর কীভাবে এই অর্জন হলো সেটি বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণ ও সরকারকে জানাতে এসেছি। সেই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে কথা বলতে এসেছি।

নিষেধাজ্ঞা কবে প্রত্যাহার হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগুলো নভেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিস্থিতি তৈরি হবে। যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বরে কিংবা ডিসেম্বরের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না তা জানতে চাইলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে অভিন্ন কর্মসূচির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছি। কীভাবে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা হতে পারে সে সম্পর্কে খতিয়ে দেখা হবে। রাজনৈতিক পর্যায়ে এ নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে দুই দেশের সরকারের আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনই সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজি হয়েছেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি, ভিসা সহজীকরণ চুক্তি, শুল্ক খাতে সহযোগিতা নিয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে মধ্যে ফোরাম গঠন ইত্যাদি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তেহরানে দুই দেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর ইরান সফরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমকে উদ্ধৃত করে বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ইরানের সঙ্গে ছয় দেশের পরমাণু চুক্তিরপ্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি চুক্তিটি কার্যকর হওয়া এবং বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতার উল্লেখ করে বলেন, এ দেশে প্রতিটি ধর্মের লোকের ধর্ম চর্চার অধিকার রয়েছে এবং কোন রকম বাধা ছাড়াই তারা তাদের ধর্ম চর্চা করছে। বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নেই। এখানে কেউ অন্যের ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার জন্য জ্বালানি ও যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সূত্র: প্রথম আলো।

Facebook Comments

Leave a Reply