অবসরে ঘুরে আসুন কালিম্পং

Kalimpongডেস্ক রিপোর্ট: সমুদ্রের পর বাঙালিকে সবসময়ই পাহাড় একটু বেশিই টানে। তবে হিমালয়ের কাছাকাছি পাহাড়ি অঞ্চলগুলির আকর্ষণতো অারও বেশি। পর্যটকদের কাছে অন্যতম সেরা আকর্ষণ তিস্তা নদীর ধারে অবস্থিত শৈলশহর কালিম্পং। তাই ৪-৫ দিনের ছুটি পেলেই হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই শৈলশহর হয়ে উঠতে পারে আপনার অবকাশ যাপনস্থল।
তিস্তা নদী:
কালিম্পং তিস্তা নদীর ধারে একটি শৈলশিরার উপর অবস্থিত। নেপালি, অন্যান্য আদিবাসী উপজাতি কালিম্পং শহরের প্রধান বাসিন্দা।
কালিম্পং:
কালিম্পং বৌদ্ধধর্মের একটি কেন্দ্র। মধ্য ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে পর্যন্ত কালিম্পং ও তার সংলগ্ন অঞ্চলগুলি পর্যায়ক্রমে শাসন করেছে সিকিম ও ভুটান। ১৭০৬ সালে ভুটানের রাজা একটি যুদ্ধে জয়লাভ করে এই এলাকাটি সিকিমের রাজার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। তিনিই এই অঞ্চলের নতুন নাম রাখেন কালিম্পং।
পশ্চিমবঙ্গ:
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা ও দেশভাগের পর কালিম্পং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
দার্জিলিং জেলার অন্তর্ভুক্ত:
অষ্টাদশ শতাব্দীতে কালিম্পংয়ের জনসংখ্যা খুবই কম ছিল। অধিবাসীরা ছিলেন মূলত আদিবাসী লেপচা সম্প্রদায় ও অনুপ্রবেশকারী ভুটিয়া ও লিম্বু উপজাতির। পরে গোর্খারা কালিম্পং আক্রমণ করে জয় করে নেয়। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে কালিম্পং দার্জিলিং জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়।
কাঞ্চনজঙ্ঘা:
কালিম্পং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার শৃঙ্গটি খুব পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। ফলে এখান থেকে হিমালয়ের অপরূপ শোভা চেখে দেখারও সুযোগ পাওয়া যাবে।
ডেলো পাহাড়:
ডেলো পাহাড়টি কালিম্পংয়ের সবচেয়ে উঁচু পয়েন্ট। এখান থেকে কালিম্পং শহরটির শোভা সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।
কালিম্পং আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্ট সেন্টার:
কালিম্পংয়ের কালিম্পং আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্ট সেন্টারে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নানা ঐতিহাসিক সামগ্রী রয়েছে।
তিস্তা বাজার:
কালিম্পংয়ে এলে প্রায় সব পর্যটকই এই বাজারে আসেন। সস্তায় নানা সামগ্রী পাওয়া যায় এখানে।
রোমান ক্যাথলিক চার্চ:
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে এখানে রোমান ক্যাথলিক চার্চ গড়ে ওঠে।
জাং ঢোক পালরি ফোডাং:
কালিম্পংয়ে অনেক বৌদ্ধ মনাস্ট্রি রয়েছে। এর মধ্যে জাং ঢোক পালরি ফোডাং মনাস্ট্রিটি বিখ্যাত।
কমলালেবুর বাহার:
শিলিগুড়ি বিমানবন্দর থেকে কালিম্পংয়ের দূরত্ব ৬৬ কিলোমিটার। এছাড়া জলপাইগুড়ি থেকে কালিম্পংয়ের দূরত্ব ১১২ কিলোমিটার। এরপর কালিম্পংয়ে পৌঁছলে চোখে পড়বে কমলালেবুসহ আরও নানা ফুল-ফলের বাহার।
ম্যাক ফারলেন চার্চ:
স্কটিশ মিশনারিরা ১৮৯১ সালে এই চার্চটি তৈরি করেন।
মর্গ্যান হাউস:
ব্রিটিশ আমলে তৈরি কালিম্পংয়ের অন্যতম পুরনো বাংলো এটি।
সায়েন্স সিটি:
সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত এই সায়েন্স সিটিতি ডেলো থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। পাহাড়ের কোলে এই জায়গাটি বাচ্চাদের অন্যতম পছন্দের জায়গা।

Facebook Comments

Leave a Reply