‘বেডরুম, আলমারি, বাথরুম, কমোডে, রান্নাঘরে, বিছানায়.. সর্বত্র সাপের বাচ্চা৷’

Saper-Baccaডেস্ক রিপোর্ট : আচমকাই রান্নাঘরে গ্যাস সিলেন্ডারের পিছন থেকে উঁকি দিলেন তিনি৷ আকারে এক ফুট হলেও ভয় পাওয়ানোর পক্ষে যথেষ্ট৷ অনাহুত এই অতিথি আর কেউ নন, একটি গোখরোর বাচ্চা!
ভারতের মুম্বাইয়ের আরসিএফ কলোনির স্টাফ কোয়ার্টারের উইং ১৬-এর গ্রাউন্ড ফ্লোরে ৩৫৭ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টে শুক্রবার এমন অভিজ্ঞতারই সম্মুখীন হয়েছিলেন এক দম্পতি৷ সঙ্গে সঙ্গে সাপ উদ্ধারকারী সুনীল কদমকে খবর দেন তারা৷ তিনি এসে সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান৷ কয়েক ঘণ্টা পরের ঘটনা৷ এ বার বাথরুমে দেখা গেল আরো একটি খুদে গোখরোর মাথা৷ ফের খবর দেয়া হলো কদমকে৷
এ বার উনি আর একা আসেননি, সঙ্গে নিয়ে এলেন আরো চার উদ্ধারকারীকে৷ সারা অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে মিলল ১২টি এরকম গোখরোর ছানা৷ কদমের কথায়, ‘বেডরুম, আলমারি, বাথরুম, কমোডের পিছনে, রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে, বিছানার তলায়… সর্বত্র কিলবিল করছিল সাপের বাচ্চা৷’
ভয়ের চোটে পাশের ৩৫৮ নম্বর রুমে চলে যান মানে দম্পতি৷ কৈলাসের কথায়, ‘পাশের রুমে সবে ঘুমোতে যাচ্ছি, হঠাত্‍ পুনমের চোখে পড়ল বেডরুমে তেমনই আর একটা সাপ৷ ফের ওই রাতে উদ্ধারকারীদের খবর পাঠাই৷ ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হয় চারটি গোখরোর ছানা৷ পরে জিনিসপত্র নিয়ে স্টাফ কোয়ার্টারের অন্য উইংয়ে চলে যাই, কিন্তু ভয়ের চোটে দু’দিন ঘুমোতে পারিনি৷’ কৈলাসের ভয় ছিল, মা গোখরো হয়তো বাচ্চাদের খোঁজে এসে হাজির হতে পারে৷
কদম অবশ্য কৈলাসের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘মা সাপ ফিরে আসবে, এটা জল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়৷ সাপ এক বার ডিম পেড়ে চলে গেলে আর সেখানে ফিরে আসে না৷ মার্চ-এপ্রিল গোখরোর প্রজননের সময়৷ মানে দম্পতি আসার আগে অ্যাপার্টমেন্টটি বেশ কিছুদিন বন্ধ পড়ে ছিল৷ মনে হচ্ছে তখনই গোখরো এসে ডিম পেড়ে গেছে৷’ তবে বিষের তীব্রতার বিচারে বড় ও ছোট গোখরোর মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নেই বলে দাবি কদমের৷
আরসিএফ কলোনির পাশেই অনুশক্তি নগর, সেটি ভাবা অটোমিক রিসার্চ সেন্টারের রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স৷ সেখানে সাপের উপদ্রব কোনো নতুন ঘটনা নয়৷
আরসিএফের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের কথায়, ‘এই মরসুমে প্রায়ই সাপ বেরোনোর খবর পাওয়া যায়, তাই চারপাশে পোস্টার লাগিয়ে সাপ উদ্ধারকারীদের নম্বর লিখে রাখার ব্যবস্থা করেছি৷’ তার দাবি, পাহাড় কেটে ইস্টার্ন ফ্রিওয়ে তৈরি হওয়ার পর থেকেই রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে সাপের উপদ্রব বেড়েছে৷

Facebook Comments

Leave a Reply