সখিনার ডিমে কুমিরছানা!

sokhina-dim-diecheডেস্ক : বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনের সোনাকাটা ইকোপার্কে কুমির প্রজনন কেন্দ্রের দু’টি কুমিরের একটি ‘সখিনা’ প্রথমবারের মতো ডিম দিয়েছে। ইকোপার্ক কর্তৃপক্ষ ও বনবিভাগ আশা করছে সখিনা সফলভাবে কুমিরছানা ফুটাবে। কুমিরটি ২৫ থেকে ৩০টি ডিম দিয়েছে। বর্তমানে ডিমে তা দিচ্ছে। ডিম থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে বাচ্চা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক নিয়মে বাচ্চা না ফুটালে পরবর্তীতে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা করে কুমিরের বংশ বিস্তার করা হবে। বন বিভাগ সূত্র জানান, ইকো-ট্যুরিজমে সুযোগ বৃদ্ধি শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সখিনা বিটে ২০১১-১২ অর্থবছরে একটি ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়। টেংরাগিরি বনাঞ্চলের অভয়ারণ্যে আটটি হরিণ, ২৪টি শুকর, আটটি চিতাবাঘ, দু’টি অজগর এবং দু’টি সজারু ছাড়া হয়। সেই সঙ্গে এখানে একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন করে তিনটি কুমির ছাড়া হয়। কুমির তিনটির নাম দেয়া হয়-টেংরা, গিরি ও সখিনা। এর মধ্যে টেংরা মারা যায়। সম্প্রতি সখিনা ডিম দেয়ায় বাচ্চা হওয়ার আশা করছে বনবিভাগ। প্রতিদিন কুমিরের ডিম দেখতে আসছে দর্শনার্থী। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শনার্থীদের থেকে দূরে রাখা হয়েছে কুমিরের ডিম। এখানে প্রাকৃতিক নিয়মে কুমির নিজেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর চেষ্টা করছে। এখান থেকে সাতটি ডিম আলাদা করে হিপ পদ্ধতিতে বালি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী খেমংলা রাখাইন বলেন, ‘একটি কুমির মারা যাওয়ায় স্থানীয়রা হতাশ হয়ে পড়েছিল। তবে নতুন করে আশা জাগিয়েছে কুমির ‘সখিনা’। তালতলীবাসী কুমির সখিনা মা হওয়ার সংবাদে আনন্দিত। টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনের সখিনা বিট কর্মকর্তা সজিব কুমার মজুমদার জানান, এ বছর প্রাকৃতিক উপায়ে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যেহেতু প্রথম ডিম দিয়েছে তাই কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী বছর থেকে ইনকিউবেটরে ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা করা হবে। করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রের কুমির বিশেষজ্ঞ জাকির হোসেন জানান, যেহেতু এখানে প্রথমবার ডিম এসেছে তাই কোনো কৃত্রিম উপায় ব্যবহার করা হয়নি। কৃত্রিম উপায়ে কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা আসতে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ দিন সময় লাগে। যেহেতু প্রাকৃতিক উপায়ে বাচ্চা হবে তাই ৯০ দিন পর্যন্ত খোঁজ রাখতে হবে। বাচ্চা এলে সেগুলোকে আলাদা করে ফেলতে হবে। পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মিহির কুমার দে বলেন, ‘ডিম দেয়ার খবর পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

Facebook Comments

Leave a Reply