আল্লাহ শব্দটি এসেছে কাবা শরীফের প্রধান মূর্তির নাম থেকে: আগাচৌ

abdul-goffar-chowdhuryলন্ডন প্রবাসী প্রবীণ সাংবাদিক ও আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী আবদুল গাফফার চৌধুরীর (আগাচৌ) এবার মহান আল্লাহকে জড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, আল্লাহ শব্দটি এসেছে কাবা শরীফের প্রধান মূর্তির নাম থেকে।
১০ জুলাই (শুক্রবার) নিউইয়র্কের টাইম টেলিভিশনের রাত ১০টার সংবাদে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেন। ম্যানহাটনের হোটেল ওয়েস্টিন থেকে নেয়া সাক্ষাৎকারে  আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘আল্লাহর যে ৯৯ নাম, এগুলো কাবা শরীফের দেবদেবীর নাম ছিল। একটি বড় প্রমাণ হলো যে, আমাদের রসুল্লাহর (স.) বাবার নাম ছিল আবদুল্লাহ। আল্লাহ শব্দটি এসেছে কাবা শরীফের প্রধান যে মূর্তিটি ছিল তার নাম ইলাত, কেউ বলে ইলাহ, কেউ বলে ইলাত থেকে এসেছে। এইভাবে আমাদের রসুল আরবের যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেটা ধর্মবিরোধী নয় সেগুলোকে তিনি গ্রহণ করেছেন। এমন কি হজও ইসলামের হজ নয়। এটাও সেই দুই হাজার তিন হাজার বছর আগের কাফেরদের দ্বারা প্রবর্তিত হজ (নাউজুবিল্লাহ)। উনি সেখানে একেশ্বরবাদটাকে যুক্ত করেছেন। এটিই আমি বলেছি যে এটা হচ্ছে একাডেমিক আলোচনা এবং আমি সাহাবাদের সম্পর্কে কোনো কটূক্তিই করি নাই।’
তিনি  বলেন, ‘তেসরা জুলাই নিউইয়র্কে আমি যে বক্তব্য দিয়েছি একটি একাডেমিক আলোচনা সভায়। সেটাকে বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক মৌলবাদী দল রাজনৈতিক পুঁজি করেছে, এবং মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তারা বলেছে যে, আমি ধর্মবিরোধী। রাসুল (সা.), ইসলাম এমনকি আল্লাহর অবমাননা করেছি। কোনো সাধারণ মানুষের আল্লাহকে অবমাননা করার শক্তি আছে- এটা প্রচার করাও ধর্মদ্রোহিতা এবং এই তথাকথিত ইসলামপন্থীরা এটাই প্রচার করছে।’
গত ৩ জুলাই শুক্রবার ম্যানহাটনের বাংলাদেশ মিশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একক বক্তব্যে রাসুল (সা.) ও পর্দা নিয়ে তার মন্তব্যের বিষয় সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি ওই দিন যে বক্তব্য দিয়েছি তা যথার্থ ছিল। এটাকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে চিহ্নিত জামায়াত ও হেফাজতীরা। জাতিসংঘ মিশনের দেয়া বক্তব্য নিয়ে তারা রাজনৈতিক প্রপাগান্ডায় নেমেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ওই দিনের বক্তব্য ঘিরে ফুঁসে ওঠে প্রবাসী ধর্মপ্রাণ মানুষ। বাংলাদেশেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। বিএনপি দাবি করেছে, আবদুল গাফফার চৌধুরী আস্তিক বা নাস্তিক হতে পারেন। কিন্তু ধর্ম নিয়ে কথা বলে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের মনে আঘাত দিয়েছেন। এ কারণে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তার শাস্তির দাবি করেছে দলটি।
তীব্র প্রতিবাদের মুখে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের ব্যানারে ৭ জুলাইয়ের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পন্ড হয়ে যায়। ওই দিন জ্যামাইকা থেকে ব্রুকলিনে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি আবদুল গাফফার চৌধুরীকে। সেখানেও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় আয়োজকদের। তার ওই বক্তব্যকে ঘিরে শুক্রবারও সিটির বিভিন্ন মসজিদে মসজিদের খুতবায় নিন্দা জানানো হয়। এছাড়া ৮ জুলাই সোমবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে আলেম-ওলামারা গাফফার চৌধুরীকে প্রকাশ্যে তওবা পূর্ব ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে মসজিদে বিশেষ খুতবা পাঠের হুঁশিয়ারিও দেন আলেম সমাজ।
আমেরিকা সফরের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গেইতনি বলেন, ‘আমি নিউইয়র্কে এসেছি ব্যক্তিগত ব্যাপারে এবং কিছুটা আমন্ত্রিত হয়ে। এখানে আমাদের বাংলাদেশ মিশনে আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতিই বলব, মোমেন সাহেবের (জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি) আমন্ত্রণে একটি সিরিজ লেকচারে অংশগ্রহণ করার জন্য। এ লেকচারটি হয়ে গেছে। আর ব্যক্তিগতভাবে আমি এখানে এসছি এই জন্য যে, আমি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ওপর একটি ডক্যুমেন্টারি করছি। তার সম্পর্কে এখানে কিছু বিখ্যাত লোকের মন্তব্য রেকর্ড করার জন্য। দুই কারণেই এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি মিশনে বক্তব্য দিয়েছি। যেখানে বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। আমাদের বাংলাকে বলা হতো হিন্দুর ভাষা, এটা ঠিক নয়। বাংলাতে ইসলাম প্রচার হয়েছে বাংলা ভাষাতেই। আরবে ইসলাম প্রচার হয়েছে আরবি ভাষাতেই। যদিও সে ভাষা এককালে কাফেরদের ভাষা ছিল। তাতে কিছু আসে যায় না। পরবর্তীকালে ইসলামের ভাষা হয়েছে। আমাদের নাম, আমাদের সংস্কৃতির কার্যকলাপ মিশ্রিত। কোনোটাই ধর্মভিত্তিক নয়। আমাদের বিয়ে, আমাদের নামকরণ। আরবরাও তাই করেছে।’
তার বক্তব্যের বিরোধিতাকারীদের সম্পর্কে আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘তারা প্রমাণ দেখাক। আমি অন্তত এক ডজন আরবি কেতাব দেখাতে পারব। যেখানে এই নাম, দ্বিতীয় প্রধান দেবতার নাম ছিল রহমান। আমাদের রসুলুল্লাহ (স.) যখন ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন তখন তার একজন প্রতিদ্বন্দ্বী দেখা দিয়েছিল। সে নিজেকে আল্লাহর রসুল দাবি করে বলেছিল, প্রধান দেবতা হচ্ছেন রহমান। এদেশে বহুদিন আমাদের রসুলুল্লাহ ও মুসলমানকে লড়াই করতে হয়েছে। এভাবে রহমানও এডাপ্টডেট হয়ে যায় ইসলামের নামে। আমাদের রসুলুল্লাহ মূর্তিগুলো ভেঙেছেন। এক-ঈশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি কোনো ঐতিহ্য ধ্বংস করেননি।’
এখন যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের প্রতিবাদকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আগাচৌ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে চিহ্নিত জামায়াত-হেফাজতিরা। জাতিসঙ্ঘ মিশনের দেয়া আমার বক্তব্য নিয়ে তারা রাজনৈতিক প্রপাগাণ্ডায় নেমেছে। যোগ দিয়েছে কিছু সুবিধাবাদি। অসত্য বেশি দিন টিকবে না। কারো হুমকি-ধামকি ও অপপ্রচারে ভয় পান না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
আবদুল গাফফার চৌধুরী জানান, আগামি ১৪ জুলাই লন্ডনের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছেড়ে যাবেন তিনি। তার আগে ১২ জুলাই জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সম্মিলিত শক্তি’ গাফ্‌ফার চৌধুরীর জন্য এক নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করেছে। তবে এ সংবর্ধনাকে ঘিরেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

Facebook Comments

Leave a Reply