গালি শুনে ভারতের মালদহ কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ

varoter-oddhakkhoকলেজ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগপত্র নিয়ে দায়িত্ব দেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় পদ ছাড়লেন ভারতের মালদহ কলেজের অধ্যক্ষ আনারুজ্জমান৷ এ বারও কাঠগড়ায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ৷ শাসকদলের ছাত্র সংগঠন পরিচালিত ছাত্র সংসদের কলেজের মধ্যে ইফতার পার্টির করার অনুমতির আবেদন খারিজ করে দেন অধ্যক্ষ৷ ইফতার পার্টির জন্য কলেজের তহবিল থেকে টাকাও চেয়েছিল ছাত্র সংসদ৷ সেই দাবিও না মানায় তৃণমূলের রোষে পড়েন অধ্যক্ষ৷ 
কলেজ পরিচালন সমিতির অধ্যক্ষ তথা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী কারও ধর্মীয় আবেগে আঘাত না দেওয়ার কথা বলে কৌশলে ছাত্র সংসদের পক্ষেই দাঁড়ান৷ এর পর শুরু হয় অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ৷ সে সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয় বলেও অধ্যক্ষের অভিযোগ৷ যদিও ইস্তফার কারণ হিসাবে আনারুজ্জমান পারিবারিক সমস্যা ও ব্যক্তিগত অক্ষমতার দোহাই দিয়েছেন৷
শুক্রবার কলেজ পরিচালন সমিতির অধ্যক্ষকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেওয়ার পর অধ্যক্ষের বক্তব্যের প্রতি ছত্রে কিন্তু ফুটে উঠেছে ছাত্র সংসদের বিরুদ্ধে তার অসন্তোষই৷
আনারুজ্জমান বলেন, ‘ছাত্রদের অসন্তোষ সব কলেজেই হয়৷ ওটা নতুন কিছু নয়৷ ইফতার পার্টি করতে চেয়ে ওরা দু’দিন আমাকে ঘেরাও করে অশ্রাব্য গালিগালাজ করেছে৷ তবে সেটার সঙ্গে আমার পদত্যাগের কোনও সম্পর্ক নেই৷ আসলে আমি চাপ নিতে পারছিলাম না৷ নিজের ইচ্ছেয় দায়িত্ব নিয়েছিলাম৷ সাত দিনের মধ্যেই বুঝতে পারছি, আমার দ্বারা কলেজের উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ তাছাড়া পরিবার দূরে থাকে৷ তাই পদত্যাগ করে ফেললাম৷’
তিনি ইফতার পার্টি নিয়ে ছাত্র সংসদের সঙ্গে তার বিরোধের কথা বললেও ওই খবর শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লেন মালদহ কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা আবু তালাহা৷ তিনি বলেন, ‘ইফতার পার্টি বা অধ্যক্ষকে হেনস্থার কিছুই আমার জানা নেই৷ আপনাদের মতো আমিও শুনেছি, অধ্যক্ষ পদত্যাগ করেছেন৷ কারণ বলতে পারব না৷ তবে আমরা কিছু করিনি৷’
ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইফতার পার্টি করতে চাওয়া অস্বীকার করলেও পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘ছাত্র সংসদ আমাকে বলেছিল, ওরা কলেজে ইফতার পার্টি করতে চায়৷ আমি ওদের বলেছিলাম অধ্যক্ষের অনুমতি নিতে৷ কলেজ থেকে টাকা না নিয়ে নিজেদের টাকায় ইফতারের আয়োজন করতেও বলেছিলাম৷ এটা ধর্মীয় আবেগের ব্যাপার৷ তাই অধ্যক্ষকেও বলেছিলাম অনুমতি দিতে৷ এই নিয়ে গোলমাল তো কিছু হয়নি৷ অধ্যক্ষ আমাকে বলেছেন, ওর ছেলে অসুস্থ৷ উনি নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন৷ আমরা ডেকে বসাইনি৷ তাই ওর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করব না৷ কলকাতায় আছি৷ কাল ফিরে পরিচালন সমিতির জরুরি বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ করব৷’
কলেজ সার্ভিস কমিশন অধ্যক্ষ মনোনয়নের যে পরীক্ষা নিয়েছিল, তাতে প্রথম স্থান ছিল আনারুজ্জমানেরই৷ তিনি মালদহ কলেজেরই শিক্ষক ছিলেন৷ ভূগোল পড়ান তিনি৷ তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের ‘ইয়েস ম্যান’ না হওয়াতেই তাকে নিয়ে আপত্তি ছিল তৃণমূল নেতাদের৷ কিন্তু কলেজ সার্ভিস কমিশন সুপারিশ করায় অগ্রাহ্য করতে পারেননি৷ কিন্তু তিনি দায়িত্ব নেওয়ার দিন থেকেই শুরু হয়ে বিরোধ৷
Facebook Comments

Leave a Reply