খুলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্ক পুনর্স্থাপনের সকল দ্বার

আগামী ২০ জুলাই ওয়াশিংটনে কিউবান এবং হাভানায় মার্কিন দূতাবাস চালু হচ্ছে। দু’দেশের দূতাবাস চালুর মধ্য দিয়ে জোড়া লাগবে অর্ধশতাব্দীর মতো ছিন্ন থাকা কূটনৈতিক সম্পর্কে।
কিউবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বুধবার (১ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, আগামী ২০ জুলাই একসময়ের চিরবৈরী দু’দেশ তাদের মধ্যে দূতাবাস চালু করবে। কিউবান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকে দেওয়া এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা। সমঝোতার ভিত্তিতে দূতাবাস চালুর ব্যাপারে ওবামার চূড়ান্ত পদক্ষেপটি তার মেয়াদ কালের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে অন্যতম বড় অর্জন বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কিউবায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে দু’দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালের পর আর কখনও মুখোমুখি হননি দুই দেশের নেতারা। ১৯৫৯ সালে কিউবার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৬১ সালে দেশটিতে দূতাবাসও বন্ধ করে দেয় ওয়াশিংটন। এরপর ১৯৮২ সালে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কিউবাকে কালো তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কালো তালিকাভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় কিউবাই প্রথম কোনো রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা ‍পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কালো তালিকা’ভুক্ত হওয়ার কারণে কিউবাকে এতোদিন অর্থনৈতিক ও অস্ত্র রফতানির ওপর বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকতে হয়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থঋণের বিষয়ে বিভিন্ন বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
Facebook Comments