প্যারাগুয়েকে ৬-১ গোলের বন্যায় ভাসিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

d maria copa maerica 2015 semi final 600একুশেরআলো২৪ : এবারের কোপা আমেরিকার প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে হোঁচট খেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেমিফাইনালে মেসি-ডি মারিয়াদের কাছে পাত্তাই পেল না গতবারের রানার্সআপরা। দাপুটে নৈপুণ্য দেখিয়ে প্যারাগুয়েকে ৬-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৩ সালের পর বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ ভোলার মিশন নিয়ে এবারের কোপা আমেরিকায় অংশ নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শিরোপা-খরার মতো আকাশি-সাদারা যেন ভুগছিল গোল-খরাতেও। প্রথম চার ম্যাচে করতে পেরেছিল মাত্র চারটি গোল। যে লিওনেল মেসি বার্সেলোনার জার্সি গায়ে একের পর এক গোলের রেকর্ড গড়ে চলেন, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক একটি মাত্র গোল করতে পেরেছেন পেনাল্টি থেকে। সেমিফাইনালে যেন সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিতে চাইলেন জেরার্দো মার্টিনোর শিষ্যরা। প্যারাগুয়েকে নিয়ে ছেলেখেলা করে ডি মারিয়া-আগুয়েরো-হিগুয়েইনরা দিলেন ছয়টি গোল। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার গোলবন্যার ম্যাচেও কোনো গোলের দেখা পাননি মেসি। জোড়া গোল করেছেন ডি মারিয়া। স্কোরশিটে নাম তুলেছেন মার্কোস রোহো, হাভিয়ের পাস্তোরে, আগুয়েরো ও হিগুয়েইন। গোল না পেলেও পুরো ম্যাচেই নজরকাড়া নৈপুণ্য দেখিয়েছেন মেসি। খেলেছেন যথার্থ অধিনায়কের মতো। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার দুটি গোলের কারিগরই ছিলেন চারবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। ১৫ মিনিটে তাঁর দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে গোল করেন রোহো। ২৭ মিনিটে পাস্তোরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসির দারুণ এক পাসের সৌজন্যে। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে প্রথমার্ধের শেষ ভাগে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় প্যারাগুয়ে। বেশ কয়েকবার আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে। ৪৩ মিনিটের মাথায় পেয়ে যায় সফলতাও। একটি গোল শোধ করে ব্যবধান কমান প্যারাগুয়ের ফরোয়ার্ড লুকাস ব্যারিয়স। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনাকে যেন পেয়ে বসে গোল করার নেশা। ৪৭ মিনিটে পাস্তোরের পাস থেকে বল পেয়ে দারুণভাবে সেটা জালে জড়িয়ে দেন ডি মারিয়া। ৫৫ মিনিটে আর্জেন্টিনার চতুর্থ গোলটির পেছনেও দারুণ অবদান মেসির। বেশ খানিকটা দৌড়ে এসে বল ঠেলেছিলেন পাস্তোরের দিকে। পাস্তোরে সেটা জালে জড়াতে না পারলেও ফিরতি বল পেয়ে গোল করতে কোনো ভুল হয়নি ডি মারিয়ার। ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তখনই জয় নিশ্চিত করে ফেলেছিল আলবেসিলেস্তেরা। কিন্তু গোলের ক্ষুধা তখনো ফুরায়নি আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের। ৮০ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে জোরালো এক হেডে বল জালে জড়ান আগুয়েরো। পরের মিনিটেই তাঁকে তুলে নেন কোচ মার্টিনো। মাঠে নামান হিগুয়েইনকে। নাপোলির এই তারকা স্ট্রাইকারও যেন অপেক্ষা করে ছিলেন মুহূর্তটার জন্য। মাঠে নামার দ্বিতীয় মিনিটের মাথায়, ৮৩ মিনিটে বানেগার সঙ্গে দারুণভাবে ওয়ান-টু-ওয়ান খেলে হিগুয়েইনের দিকে বল বাড়ান মেসি। সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেননি হিগুয়েইনও। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখলেও আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স সন্তুষ্ট করতে পারেনি সমর্থকদের। কিন্তু সেমিফাইনালের এই দাপুটে জয় যেন আর্জেন্টিনার গায়ে আরো ভালোভাবে প্রমাণ করেছে ফেভারিট তকমার যথার্থতা। প্রথম সেমিফাইনালে পেরুকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পা রেখেছিল স্বাগতিক চিলি। ৪ জুন কোপা আমেরিকার ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

Facebook Comments