তবুও দেখা মিলল না প্রেমিক ইসমাইলের

প্রেম মানে না কোন বাধা, জাত পদ আর ধর্ম। প্রেমের টানে কূল মান যায়, তবুও প্রেম অমর-অনন্য। মোবাইল প্রেমে জন্মদাতা মা-বাবাকে ছেড়ে অন্য ধর্মের প্রেমিকে নিয়ে ঘর বাঁধার আশায় সুদূর ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের প্রিয়াঙ্কা রাণী (১৯) চলে এসেছে ঝালকাঠির রাজাপুরের দুর্ঘম চর পালট গ্রামে। কিন্তু ভালবাসার মূল দিতে এতো দূর থেকে এসেও ১০দিনেও দেখা মিলল না প্রেমিক ইসমাইল মোল্লার। প্রেমিককে না পেয়ে একে তো মনে নানা ক্ষোভ আর কষ্ট, অন্যদিকে বেরসিক পুলশের আইনী জালে আটকা পরে শ্রীঘরে রাত যাপন করতে হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়া কলেজছাত্রী এ প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কা রাণীর। এদিকে প্রেমিক ইসমাইল মোল্লা প্রেমিকার আগমনের সংবাদ শুনে সেই থেকেই গাঁঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে পুলিশ প্রিয়াঙ্কা রাণীকে ঝালকাঠি আদালতে প্রেরণ করেছে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি এনজিও’র মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ রাজাপুরের দুর্ঘম চর পালট গ্রামের শাহজাহানর মোল্লার বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রেমিক ইসমাইল মোল্লার বাবা শাহজাহানর মোল্লাকেও এ ঘটনায় আটক করে। পুলিশ ও ওই কলেজ ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা রাণী জানান, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ইসমাইলের সাথে মোবাইলে পরিচয় আদানপ্রদানের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং ১৮ জুন ঢাকায় এসে এক আত্মীয়র বাসায় ওঠেন এবং বিষয়টি ইসমাইলকে জানালে ইসমাইল শ্যামলী কাউন্টারে আসতে বলে। সেই কাউন্টারে ইসমাইল ও তার বাবা শাহজাহান উপস্থিত ছিলো। কিন্তু গোপনে প্রিয়াঙ্কাকে দেখে সটকে পড়ে ইসমাইল। প্রিয়াঙ্কা কাউন্টারে এসে ইসমাইলকে না পেয়ে তার বাবাকে পায় এবং নাচরবান্দা প্রিয়াঙ্কা তার বাবাকে কোন মতেই ছাড়তে না রাজ হলে নিরুপায় হয়ে ইসমাইলের বাবা প্রিয়াঙ্কাকে ২১ জুন গ্রামের বাড়ি চর পালট নিয়ে আসেন। রাজাপুর থানার এসআই বিপ্লব মিস্ত্রী জানান, যেেেহতু মেয়ে সেচ্ছায় এসেছে এবং মেয়ে পক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন অভিযোগ বা মামলা না করায় ছেলের বাবাকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জিম্মায় দেয়া হয় এবং মেয়েকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মেয়ে পক্ষ আদালতের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

Facebook Comments