মানুষ আত্মহত্যা করে, তবে কেন?

stop suicideপৃথিবীতে মানসিক চাপ, দুঃখ কষ্টে অনেকেই ভোগেন। তবে অনেকে ধারণা করেন মরে গেলে আর কোন কষ্ট নাই, আর কোন যন্ত্রণা নাই। বেঁচে থাকাটা শুধুই অশান্তির। এপারে শান্তি পেলাম না ওপারে বুঝি শান্তি পাবো। অনেকেই এরকম চিন্তা থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আত্মহত্যা সকল ধর্মে খমার অযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করার পর ও প্রা শোনা যায় আত্মহত্যার খবর। তবে কেন মানুষ এমন নিষ্ঠুর পথ বেছে নেই?

একটি গবেষণাই দেখা গেছে প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ লক্ষ লোক আত্মহত্যা করে আর এর দিগুণ এরও বেশী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(WHO) এক জরিপে দেখা গেছে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন লোক আত্মহত্যার অঙ্গিকার করে। আত্মহত্যার প্রবণতা ধনী লোকগুলোর গরীব লোকের তুলনাই তিনগুন বেশী।  এরজন্য বিজ্ঞানীরা যে সমস্যাটি চিহ্নিত করেছেন সেটা হল বিষণ্ণতা। বিষণ্ণতা মানুষের জীবনের প্রতি আগ্রহ নষ্ট করে দে। যেসব লোক একাকীত্বে ভোগে তাদের ভেতর ও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দুঃসহ স্মৃতি ও মানুষকে আত্মহত্যার পথে নিয়ে যায়।

আমরা জানি মানুষের সকল বিশিষ্টের ধারক ও বাহক জীন। তবে কি আত্মহত্যার জন্য কোন জীন দায়ী? তেমনটিই উঠে এসেছে জন হপকিন্স এর একদল গবেষকদের গবেষণাই। তারা আত্মহত্যার জন্য একটা নির্দিষ্ট জীন কে দায়ী করেছেন যেটা আত্মহত্যার পথে মানুষকে প্রভাবিত করে। তাই একই মানসিক চাপে একজন তার কাজকর্মে অতল থাকতে পারেন পাশাপাশি দেখা যায় আরেকজন মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। আর তখনি অনেকে বেছে নেন মৃত্যুর পথ। যারা বিষণ্ণতাই ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশের ২ নম্বর ক্রমসমের এই জীনটি কার্যকর

অন্যদিকে ভয়হীনতা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যারা বিশ্বাস করে যে অল্প সময়ের মৃত্যু যন্ত্রণা তাদের জীবনের সকল হতাশা, সকল কষ্ট মুছে দিতে পারবে তারাই এই পথ বেছে নেন। এক মুহূর্তের আবেগে অনেক সময় এই পথ বেছে নেন। তাছাড়া দরিদ্রতা, রাগ, ক্ষোভ, সিজোফ্রেনিয়া, নেশা ইত্যাদি কারনেও মানুষ আত্মহত্যা করে থাকেন।

তবে প্রত্যেকটা মানুষকে বুঝতে হবে আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়। বরং বেঁচে থেকে কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, কিভাবে দুঃখ কষ্ট দুর করা যায় সেই পথই খোঁজা উচিৎ। আর একটা পথ ধরে হাঁটতে থাকলে সেই কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছানো সম্ভব। লেখক, আশরাফুল আলম

Facebook Comments