শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে ঢাকা ছাড়ল জবির ২৩ বাস

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : ঈদে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বিশেষ বাস সার্ভিস দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন। শনিবার (১৭ জুলাই) সকাল ৯টায় রংপুরে ৯টি, রাজশাহীতে ১০টি ও সিলেট বিভাগের উদ্দেশ্যে চারটি বাস মিলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ২৩টি বাস ছেড়ে গেছে। বাস ছেড়ে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক, প্রক্টরিয়ার বডি, পরিবহন প্রশাসক ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরতে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে। গেটে তাদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানো হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি সবার আবেদনের তালিকার সঙ্গে আইডি কার্ড ও ছাত্রত্বের প্রমাণ দেখে নিজ নিজ জেলার বাসে সিট নিশ্চিত করেন। বাস ছেড়ে যাওয়ার সময় অধিকাংশ বাসে সিট ফাঁকা ছিল। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডিকে সার্বিক সহযোগিতা করে ছাত্রলীগের সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম টিটন, যুগ্ম-আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন, সৈয়দ শাকিলসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বাসে বগুড়ায় যাওয়ার সময় তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী শাহ আলম বলেন, বাসে যাওয়া নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। অবশেষে যেতে পারছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুবান্ধব ও ক্যাম্পাসের এতজন একসঙ্গে যাচ্ছি বলে সত্যিই ঈদ ঈদ মনে হচ্ছে। ধন্যবাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

অন্যদিকে রংপুরে যাচ্ছিলেন শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে সবাই একসঙ্গে যেতে পারছি, খুবই ভালো লাগছে। দীর্ঘ ভ্রমণ হলেও সবাই মিলে আড্ডা দিতে দিতে যেতে পারব।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের প্রশাসক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘আজ তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাস গেছে। মোট দেড় হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করলেও ৯০০ জনের মতো শিক্ষার্থী বাসে গেছে। অনেক বাসে সিট ফাঁকা ছিল। আগামী দুই দিনে বাকি বিভাগের বাস যাবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই চেষ্টা করেছি, সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুশৃঙ্খলভাবে যেন বাসে তোলা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন থানায় কথা বলা হয়েছে যেন আমাদের শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সার্ভিস সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, ‘ঈদের আগে বাস-ট্রেনের টিকিট পাওয়া কষ্টকর। এছাড়া করোনার কথা ভেবে আমরা শিক্ষার্থীদের বাস দিয়েছি। তারা যেন বাসায় গিয়ে নিরাপদে থাকে বলে দিয়েছি।’

Facebook Comments