আইপিএল ছাড়তে রাজি ইংল্যান্ড বাংলাদেশ সফরের জন্য 

স্পোর্টস ডেস্ক : করোনার ধাক্কায় স্থগিত আইপিএল। টাকার ঝনঝনানি তবু কানে বেজেই চলেছে আয়োজকদের। যে কোনো মূল্যেই আইপিএলের বাকি অংশটা তাই আয়োজন করতে চায় তারা। সম্ভাব্য সময় ধরে রাখা হয়েছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর।

কিন্তু এই সময়ে আইপিএল আয়োজন করতে গিয়ে বড় বিপাকে পড়তে পারে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। কেননা সেপ্টেম্বরে অনেক দলেরই আন্তর্জাতিক শিডিউল আছে। সেক্ষেত্রে এবারও আইপিএলের জন্য জায়গা ফাঁকা রাখা কঠিন হবে অনেকের জন্য।

ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, তারা আইপিএলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়বে না। তাদের দেখানো পথে হাঁটতে পারে অন্য দলগুলোও। যদিও অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেপ্টেম্বর উইন্ডো ফ্রি-ই আছে।

তবে এক ইংল্যান্ড সরে গেলেই বড় বিপদে পড়বে আইপিএল। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান সফরে সীমিত ওভারের সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা ইংলিশদের। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) পরিচালক অ্যাশলে জাইলস পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আইপিএলের চেয়ে তারা জাতীয় দলের খেলাকেই গুরুত্ব দেবেন।

যদি সেটাই হয়, তবে আইপিএলের বেশ কয়েকটা ফ্র্যাঞ্চাইজি দল সাজাতে হিমশিম খাবে। ইংল্যান্ডের ১৪ জন ক্রিকেটার আইপিএলের এবারের আসরে খেলছেন। তারা হলেন-মঈন আলি, জোফরা আর্চার, লিয়াম লিভিংস্টোন, ইয়ন মরগ্যান, জস বাটলার, বেন স্টোকস, স্যাম কুরান, টম কুরান, ক্রিস ওকস, জনি বেয়ারস্টো, স্যাম বিলিংস, ক্রিস জর্ডান, ডেভিড মালান, জেসন রয়।

ইসিবির পরিচালক জাইলস বলেন, ‘যদি সফরসূচি ঠিক থাকে, তবে আমাদের খেলোয়াড়রা সেখানে থাকবে। আমরা ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের দেশের ম্যাচে রাখারই পরিকল্পনা করছি।’

ইংল্যান্ডের খেলা আছে বাংলাদেশের সঙ্গে। বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান আর মোস্তাফিজুর রহমানও খেলেন আইপিএলে। সেক্ষেত্রে তারাও দেশের খেলা রেখে এবার যাবেন কি না, সেই সংশয় থাকছেই।

ইংল্যান্ডের পথ ধরে আইপিএলকে ‘না’ বলে দিতে পারে আরও কয়েকটি দল। সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলার কথা।

সেক্ষেত্রে তারাও জাতীয় দলকে গুরুত্ব দিলে কেন উইলিয়ামসন, ট্রেন্ট বোল্ট, কাইল জেমিসন, লুকি ফার্গুসন, জিমি নিশাম এবং মিশেল স্যান্টনারদেরে আইপিএলের বাকি অংশে না দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আফগানিস্তানেরও সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওযানডে সিরিজ নিয়ে কথা চলছে। সেই সিরিজ পাকাপাকি হলে রশিদ খানের মতো তারকাকে পাবে না সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের জন্য যদি বোর্ডগুলো কিছুটা ছাড় দিয়ে নতুন করে শিডিউল সাজিয়ে নেয়, সেটা আলাদা কথা। না হলে সবমিলিয়ে বেশ বিপাকেই পড়বে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

Facebook Comments