দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণের চূড়ায় করোনা

নিউজ ডেস্ক : দেশে দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণের চূড়ায় করোনা। তবে নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় তীব্রতা বোঝা কঠিন হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের ধারণা, লকডাউন ও চলাচল সীমিত হওয়ায় দু-সপ্তাহ পর প্রকোপ কমে আসতে পারে। কিন্তু এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় হয়নি।

মার্চের শুরুতে এসেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা। প্রথমবারের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুও বেশি। এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ ১১২ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে, সেখানে গত বছর ছিলো ৬৪ জন।

এরই মধ্যে টানা ৪ দিন একশর ওপরে ছিল প্রাণহানি। ৭ এপ্রিল সবোর্চ্চ সনাক্ত ৭ হাজার ৬শ ২৬ জন। তবে এরপর থেকে কমতে শুরু করে শনাক্তের হার।

এপ্রিলে একদিনে সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার। তবে সংক্রমণ-মৃত্যু ঊর্ধ্বমুখি থাকলেওে ধাপে ধাপে কমতে থাকে পরীক্ষা। এতে সংক্রমণের তীব্রতা বোঝা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলমান লকডাউনের ফল দুই সপ্তাহ পর থেকে পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। তবে এখনও করোনার সংক্রমণ স্বস্তিকর পর্যায়ে আসেনি বলেও অভিমত জনস্বাস্থ্যবিদদের।

করোনা ভাইরাস যেভাবে রুপ পরিবর্তন করছে তাতে হার্ড ইমিউনিটি হতে সময় লাগবে। এরই মধ্যে ভাইরাসটি সহায়ক পরিবেশ পেয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাই সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই-বলছেন তারা।

এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। এর মধ্যে কয়েক দফা লকডাউন দিয়েছে সরকার।

গবেষকরা বলছেন, করোনা এরই মধ্যে ব্যপক মাত্রায় ছড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ভাইরাসটি ৪ হাজার ৬শরও বেশি বার রূপ পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে ৩৪ টি একেবারেই নতুন। আর এখন করোনার যে ধরণ এসেছে সেটি নিয়েও বিশদ গবেষণা এখনো হয়নি।
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর লকডাউন দেয়ার বাস্তবতা নেই- বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস ইঞ্জনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির শিক্ষক এস এম মাহাবুবুর রশিদ।

তার মতে, ভাইরাসটি যেভাবে রুপ পরিবর্তন করছে তাতে হার্ড ইমিউনিটি হতে সময় লাগবে। মাস্ক পরার পাশাপশি সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করতে পারলে করোনা ঠেকানো অনেকটাই সহজ হবে।

নতুন ভাইরাসের গতি প্রকৃতি জানতে আরো বিস্তর গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা।

Facebook Comments