হেফাজতের ৮ শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক : ভাঙচুর, নাশকতাসহ বেশ কয়েকটি মামলায় মামুনুলসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় আট নেতা গ্রেপ্তার হয়েছে। আহমেদ শফীকে হত্যা প্ররোচনা মামলায় সংগঠনের মহাসচিব জোনায়েদ বাবুনগরীকেও দোষী সাব্যস্ত করেছে পিবিআই। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহিংসতা ছড়ানোয় হেফাজত কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে হেফাজত।

২০১৩ সালের ৫মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয় হেফাজত। বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনে চালায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। পরে তাণ্ডব চালায় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। দেশব্যাপী মামলা হয় ৮৩টি। আসামি করা হয় ৮৪ হাজার ৯৭৬ জনকে।

 

এরপর গত মাসের ২৬ মার্চ মোদির সফরের বিরোধীতা করে তাণ্ডব চালায় বায়তুল মোকাররম এলাকায়। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা হয়েছে শাহবাগ, যাত্রাবাড়ি, পল্টন ও মতিঝিল থানায়। চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে রাস্তায় নামে হেফাজত কর্মীরা। অবরোধ করে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক। কর্মীরা ভাঙচুর চালায় হাটহাজারি থানা, ভূমি অফিস ও ডাকবাংলোতে।

মসজিদে মাইকিং করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায় হেফাজত। জেলা পরিষদ, পৌরসভা, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন, প্রেসক্লাব, পুলিশ লাইনস, সদর থানা, রেল স্টেশনে ভাঙচুর ও আগুন লাগায়। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৯টি।

এরপর বিক্ষোভে পুলিশের বাঁধার প্রতিবাদে ২৮ মার্চ হরতালের ডাকা দেয় হেফাজত। ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ চালায় নারায়ণগঞ্জে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৭৮টি। আসামি করা হয়েছে ৪৩ হাজারের বেশি।

৩ এপ্রিল সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বার রুম থেকে নারীসহ আটক করা হয় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে। সেখানে ঐ নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন তিনি। পরে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর ও মহাসড়কে নাশকতা চালায় হেফাজত কর্মীরা।

এপ্রিলে একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকে হেফাজত নেতারা। ১১ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হয় হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক। ১৪ এপ্রিল হেফজতের সহকারী মহাসচিব শাখাওয়াত হোসাইন রাজী গ্রেপ্তার হন। ১৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন জুবায়ের আহম্মদ। ১৭ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগরীর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব। একই দিন গ্রেপ্তার হয় হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহম্মদ। সবশেষ গ্রেপ্তার হন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। ।

এছাড়া, আহমেদ শফীকে হত্যা প্ররোচনা মামলায় হেফাজত মহাসচিব জোনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পিবিআই।

Facebook Comments