বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার ,পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে

নিউজ ডেস্ক : বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার। তাই পণ্যের দাম বৃদ্ধির শঙ্কা নেই। তাছাড়া পণ্য পরিবহণে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেতনভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ‘বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ’বিষয়ক স্থায়ী কমিটি করেছে। এ কমিটি কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘পবিত্র রমজান মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে রোববার এ তথ্য জানানো হয়।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বিশেষ অতিথি ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন-ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। মুক্ত আলোচনায় ডিএনসিসি কাঁচা ও সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দীন মোহাম্মদ, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এসএম নাজির হোসেন, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, র‌্যাব-৩ অধিনায়ক রাকিবুল হাসান, বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রশা.) তাহের জামিল এবং ডিএমপির এডিসি মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মো. গোলাম মওলা এবং মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েতুল্লাহ প্রমুখ অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোজা এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। অনেক সময় পণ্যের সাপ্লাই ও চাহিদার সমন্বয় থাকে না। তিনি বলেন, পণ্য পরিবহণে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট সচেতনভাবে কাজ করছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন সুযোগ নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিএসটিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানাই।

এ সময় তিনি ব্যবসায়ী সমাজকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সজাগ থাকতে হবে বলে মতপ্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে দেশবাসীকে বাঁচাতে হবে। সরকার আগামী ১ সপ্তাহের জন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সবাইকে তা মানার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, এটি একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে জনগণকে আসন্ন রমজান মাসে সুফল দেওয়া যাবে। তিনি জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৯ সদস্যের ‘বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ’ স্থায়ী কমিটি গঠন করেছে।

যারা শিগগিরই তাদের কাজ শুরু করবে। ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। তিনি লকডাউনের সময়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, ব্যবসায়ী সমাজের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রমজান মাসে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের পাশাপাশি অতিরিক্ত মজুতকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত পরিবহণ ব্যয় প্রভৃতি কারণে প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসের আগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনসাধারণের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির ফলে গত বছরের শেষ ৯ মাসে আয় কমে যাওয়া ও কর্মচ্যুতির ফলে অধিকাংশ মানুষ ঋণ করে এবং সঞ্চয় ভেঙে জীবন নির্বাহ করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে দরিদ্ররা নিদারুণ কষ্টে পড়বেন। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আসন্ন রমজানে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে রমজানে আমদানিনির্ভর ভোগ্যপণ্য বন্দর থেকে কাস্টমস হাউজ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দ্রুত খালাসকরণ, পরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশের সব বাজারে দক্ষ ও পর্যাপ্ত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত ন্যায্য মূল্য তালিকা হালনাগাদ করা এবং মূল্য তালিকা কার্যকর করা, অতি দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নগদ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, রমজান উপলক্ষ্যে চাহিদামতো পণ্য আমদানি করা হয়েছে। উৎপাদন পরিস্থিতিও ভালো। তাই করোনা পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজানে পণ্যের দাম বাড়ার কোনো শঙ্কা নেই। বরং বাজারে ভোক্তার চাপ কমতে থাকলে দাম কমতে শুরু করবে।

 

Facebook Comments