কথিত শিশুবক্তা মাদানী আটক

নিউজ ডেস্ক : রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে ‘কথিত শিশু বক্তা’ হিসেবে আলোচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীকে নেত্রকোনা থেকে আটক করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এর একটি দল।

বুধবার নেত্রকোনা থেকে তাকে আটক করা হয়। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রফিকুলের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামে। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয় বলে স্বজনরা জানায়।

নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরুদ্ধে গত ২৫ মার্চ বিক্ষোভকালে ঢাকার মতিঝিল এলাকা থেকে রফিকুলকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়নি।

এদিকে রফিকুল ইসলাম মাদানীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বুধবার বিকেলে নেত্রকোণায় সংবাদ সম্মেলন করেছে হেফাজত ইসলাম নেত্রকোণা জেলা শাখা এবং রফিকুল ইসলামের পরিবারবর্গ।
রফিকুলের বড় ভাই রমজান মিয়া বলেন, তার ভাই গত সোমবার ঢাকা থেকে ফিরেছিলেন। মঙ্গলবার একটি ওয়াজ মাহফিল শেষে রাতে বাড়িতেই ছিলেন। রাত ২টার দিকে র‌্যাব পরিচয়ে কয়েকজন এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

জেলা হেফাজত ইসলামের সদস্য মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রফিকুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করা হবে। এরপর কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সংবাদ সম্মেলনে মাদানীর চাচাত ভাই নজরুল ইসলামসহ জেলা হেফাজত ইসলামের নেতারা ছিলেন।

এর আগে গত ২৫ মার্চ রাজধানীর শাপলা চত্বরে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল থেকে তাকে আটক করে মতিঝিল থানা পুলিশ। যদিও কয়েক ঘণ্টা পরেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে ওই ঘটনায় করা মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়নি। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ওইদিন দুপুরে পল্টনে মুক্তাঙ্গনে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ করে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ।

রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা জেলার পশ্চিম বিলাসপুর সাওতুল হেরা মাদ্রাসার পরিচালক। তিনি রাজধানীর জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। শারীরিক আকৃতিতে ছোট হওয়ায় তাকে সবাই ‘শিশুবক্তা’ বলেন এবং এ হিসেবেই পরিচিতি পান তিনি।

 

Facebook Comments