ক্রোক হবে পিকের ৭১ একর জমি

পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের হাজার কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৭১ একর জমি ক্রোকের অনুমতি পেয়েছে দুদক। এসব জমি রয়েছে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদী শহরে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন।

পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক। অনুসন্ধানে শনাক্ত হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীতে তাদের নামে থাকা ৭১ একর জমি।

হালদারের একটি ১০তলা ভবন ছাড়াও গ্রিন রোড, উত্তরা, দিয়াবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা পিকে হালদারের ওইসব জমি জব্দের আদেশ ইতোমধ্যে হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এসব জমি ক্রোকের আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করা হয়। দুদক জানায়, এসব জমির আনুমানিক মূল্য হাজার কোটি টাকা।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

দুদকের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, পিকে হালদারের বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে তার অবৈধ সম্পদ জব্দের জন্য আমরা আদালতে একটি আবেদন করেছিলাম। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত ওই সব সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছেন। এর আগেও পিকে হালদারের (প্রশান্ত কুমার হালদার) আরো সম্পত্তি জব্দ হয়েছে।

এই চার কোম্পানি হল- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।

এছাড়া সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদারের বিরুদ্ধে আরেকটি অনুসন্ধান করছে দুদক।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এ অনুসন্ধানের অংশ ইতোমধ্যে পাঁচটি মামলা করেছে দুদক। এক মামলায় পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাশেদুল হক ও উজ্জ্বল কুমার নন্দীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাশেদুল ও উজ্জ্বল আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে পিকে হালদারের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে বেশ কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন বড় কর্মকর্তার নাম বলেছেন বলে দুদক কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

পিকে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। তার মা লীলাবতী হালদার এবং অবন্তিকা বড়ালসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট।

Facebook Comments