গাবতলীতে ৬মাসের বেতন পৌনে ২০লাখ টাকা পাচ্ছেন গ্রাম পুলিশরা

মুহাম্মাদ আবু মুসা : বগুড়ার গাবতলীতে শতাধিক গ্রাম পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ অংশের ৭মাস যাবৎ বেতন ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করলে গত ৬জানুয়ারী/২১ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ রওনক জাহানকে অবহিত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে পরের দিন গত ৭জানুয়ারী/২১ ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আসলে তিনি অত্যান্ত গুরুত্ব দেন। সার্বিক বিষয়টি তিনি (ইউএনও) খতিয়ে দেখে মানবিক কারনে তাদের বকেয়া ৬মাসের বেতনের ব্যবস্থা করে দেন। ১’শ ১জন গ্রাম পুলিশের ৬মাসের বকেয়া ১৯লাখ ৭৪হাহার ৭’শ ৫০টাকার চেক গত ১০জানুয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ রওনক জাহান স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংক হিসাব ইউএনও এবং উপজেলা প্রকৌশলী যৌথ রয়েছে। আর উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা ১৩জানুয়ারী পর্যন্ত প্রশিক্ষণে থাকায় গ্রাম পুলিশরা বেতন উত্তোলন করতে না পারলেও আজ ১৪জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সুব্যবস্থা হবে বলে সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ রওনক জাহান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, সাব রেজিস্ট্রী অফিসে দলিল করা থেকে অর্থাৎ ১% থেকে ইউনিয়ন পরিষদ অংশের গ্রাম পুলিশদের বেতন ভাতা হয়ে থাকে। কিন্তু করোনা’র কারনে অন্যান্য অফিসের ন্যায় গাবতলী সাব রেজিস্ট্রী অফিসও বন্ধ ছিল। তাছাড়া দলিলপত্রও কম হয়েছে। ফলে এই ১% টাকা ব্যাংকে অল্প অল্প করে জমা হওয়ার পর তাদেরকে বেতন ভাতা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি (ইউএনও) আরো বলেন, মানবিক কারনে গ্রাম পুলিশদের সমস্ত বকেয়া বেতন (জুলাই-ডিসেম্বর/২০) অর্থাৎ ৬মাসের বেতন ভাতা দেয়ার জন্য চেক স্বাক্ষর করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি প্রশিক্ষণে থাকায় ওই চেক স্বাক্ষর করতে পারিনি। আশা করছি আজ বৃহস্পতিবারই গ্রাম পুলিশরা তাদের বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারবে। প্রকাশ, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১’শ ১১জন গ্রাম পুলিশ কর্মরত থাকলেও কিছু অবসরে ও মৃত্যু বরণ করায় বর্তমানে ১’শ ১জন দায়িত্ব পালন করছেন। এরা অর্ধেক সরকারী রাজস্ব থেকে আর অর্ধেক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অর্থাৎ ১% থেকে বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন। এছাড়া সরকারীভাবে হাজিরা ভাতা পান তারা। কিন্তু সরকারী রাজস্ব থেকে অর্ধেক বেতন পেলেও দীর্ঘ ৭মাস যাবৎ হলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অর্থাৎ ১% থেকে বেতন ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন তারা। সকলেই গ্রাম পুলিশ হলেও প্রতিটি ইউনিয়নে একজন ইনচার্জ (দফাদার) এর বেতন ভাতা মাসিক ৮হাজার ২’শ আর মহল্লাদার ৭হাজার ৭’শ টাকা বেতন ভাতা পান। গাবতলী উপজেলা গ্রাম পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাদশা মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী রমেশ চন্দ্র বকেয়া ৬মাসের বেতন হওয়ার কথা শুনে তারা অত্যান্ত আনন্দিত হয়ে গ্রাম পুলিশদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ঠদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এখন সাপ্তাহিক থানায় যাতায়াত হাজিরা ভাতা বকেয়া গুলো দেয়া জন্য আমরা অনুরোধ করছি।

Facebook Comments