খিরা চাষে লোকসানের মুখে উল্লাপাড়ার কৃষক

খ.ম একরামুল হক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার মোহনপুর ও বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নে প্রতি বছর খিরা বাম্পার ফলন হয়লেও এবার খিরা চাষে লোকসান গুনছেন কৃষক। সঠিক সময়ে খিরা গাছের পরিচর্যা ও ভালো কীটনাশক না দেয়ার ফলে খিরা গাছে ঢলে পড়া রোগে আক্রমন হচ্ছে। এই রোগের কারণে মারা যাচ্ছে খিরা গাছ। এই রোগের আক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় প্রতিটি মাঠে। কীটনাশক দিয়েও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। দ্রুত প্রতিরোধ করা না গেলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষক এমনটিই ধারণা করছেন তারা।
এ দিকে কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছে না কৃষকেরা। কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো সহযোগিতা না পেয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এমনটি অভিযোগ কৃষকদের। ফলে কৃষকেরা বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
খিরা ফলন খারাপ হওয়াতে এবার আগের তুলনায় দাম বেশি হলেও লোকসানের মুখে কৃষক। সিরাজগঞ্জ জেলার মোহনপুরের চরবর্দ্বগাছা সবচেয়ে বড় খিরা আড়ৎ ঘুরে দেখা যায় খিরার আমদানি কম ।
এ ব্যাপারে উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের চক পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক নজির হোসেন বলেন, আমাদের ফসলের এত বড় ক্ষতি হচ্ছে তারপরও এখন পর্যন্ত কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা পাচ্ছি না। নিজেরাই বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে কীটনাশক দিয়ে এ রোগের হাত থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে মোহনপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক এনামুল ইসলাম জানান, আমরা কৃষক, ফসলই আমাদের জীবিকা নির্বাহের এক মাত্র অবলম্বন। আর এ ফসল যদি ঢলে পড়া রোগে মারা যায় তাহলে আমরা বড় ধরণে ক্ষতির সম্মুখীন হব। এ রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা পাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, আমাদের প্রতিদিন মনিটরিং করা হয় । ঠান্ডা ও শৈত্য প্রবাহে জনিত কারণে কিছুটা এমন হতে পারে । তবে সেটা আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে ভাল হয়ে যায়।
উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন প্রতিটি আবাদের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধান বাড়ালে এবং সঠিক সময়ে কৃষকদের পরামর্শ দিলে লোকসানে পড়বে না কৃষক। উৎপাদিত শস্য স্থানীয় বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করতে পারবে দেশের অন্যান্য জেলায়

Facebook Comments