ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

Latest News Before Everyone in Bangladesh

সাফা-মারওয়া পাহাড় যেভাবে পরিষ্কার করা হয়

১ min read

ধর্ম ডেস্ক : মহান আল্লাহ তাআলা অনন্য নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম সাফা-মারওয়া পাহাড়। ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত এ পাহাড় দুটি পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদে হারামের সন্নিকটে অবস্থিত। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরিষ্কার করা হয় এ পাহাড় দুটি।

হ্যাঁ, পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদে হারাম, কাবা শরিফসহ পার্শ্ববর্তী সব স্থানেই নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। সেই সঙ্গে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় সাফা ও মারাওয়া পাহাড়। এ পাহাড় দুটি পরিষ্কার করার জন্য রয়েছে একদল বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্ন কর্মী।

মহামারি করোনার এ সময়ে কাবা শরিফের চারপাশসহ সাফা-মারওয়া পাহাড়ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। কেননা হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য সাফা-মারওয়া সাঈ করা রোকন তথা ইবাদত।

সাফা-মারওয়া পাহাড় দুটির একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ৩০০ মিটার তথা ৯৮০ ফুট। কাবা শরিফ থেকে সাফা পাহাড়ের দূরত্ব প্রায় ১০০ মিটার তথা ৩৩০ ফুট। মারওয়া পাহাড় ৩৫০ মিটার তথা ১১৫০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত।

পবিত্র কাবা ও তার পবিত্র স্থানগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে হারামাইন শরিফাইনের পরিচালনা কমিটি। এসব পবিত্র স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে তাদের আলাদা পরিকল্পনাও রয়েছে৷ সাফা এবং মারওয়াও প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়।

পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদে হারামের সুদক্ষ পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বিশেষ যত্ন ও সতর্কতার সঙ্গে সাফা-মারওয়া পাহাড় পরিষ্কার করেন। সাফা-মারওয়া পরিষ্কার করায় মসজিদে হারামের গালিচা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত উন্নত সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হয়।

সাফা-মারওয়া পাহাড় দুটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে বিশেষ একটি দল। তারা প্রতিদিন নিয়মিত এ পাহাড় দুটি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে পরিষ্কার করেন।

সাফা মারাওয়া পাহাড় হজ ও ওমরার অন্যতম রোকন। এটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বও অনেক বেশি। কেননা আল্লাহ তাআলা এ পবিত্র দুই স্থান সম্পর্কে কুরআনে আয়াত নাজিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَآئِرِ اللّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

‘নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তাআলার নিদর্শনগুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কাবা ঘরে হজ অথবা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে (সাফা-মারওয়ায়) প্রদক্ষিণ করাতে কোনো দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকির কাজ করে, তবে আল্লাহ তাআলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৮)

উল্লেখ্য, মহামারি করোনার এ সময়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ও যত্নের মাধ্যমে মসজিদে হারাম, কাবা শরিফ, তাওয়াফের স্থান, মাকাকে ইবরাহিম, সাফা-মারওয়া পাহাড়সহ পুরো হারাম এলাকায় সুদক্ষ কর্মীরা ২০টি আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ করে যাচ্ছেন।

Facebook Comments