মার্চ ৭, ২০২১

Latest News Before Everyone in Bangladesh

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় বোরো ধানের স্বপ্ন বুনছেন কৃষক

১ min read

খ.ম একরামুল হক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে রবি মৌসুমের বোরো ধানের বীজতলা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আর কিছু দিন পরে মাঠে মাঠে শুরু হবে বোরো ধান লাগানোর কাজ। তাই একটু আগে ভাগেই মাঠ জুড়ে চলছে বোরো ধানের বীজতলার জমি তৈরী ও বীজ রোপনের কাজ। সিরাজগঞ্জে বৃষ্টিপাতের এলাকা হওয়ায় এখানে বোরো ধানের চাষ বেশ ভালো হয়। বোরো ও ইরি ধানই এই অঞ্চলের কৃষকের একমাত্র ভরসা। ইরি আমন ধানের চাষটা নির্ভর করে সম্পূর্ণ প্রকৃতির উপর।
উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. গোলাম রব্বানি জানান, চলতি রবি মৌসুমের বোরো চাষের জন্য রায়গঞ্জে প্রায় ১৯ হাজার ৫’শ হেক্টর আবাদী জমির বিপরীতে ৯’শ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরীর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বীজতলা তৈরী হতে পরে বলে ধারনা করছে কৃষি বিভাগ। স্থানীয় কৃষকরা বলছে, চলতি মৌসুমের শুরুতেই বেশ কুয়াশা লক্ষ করা যাচ্ছে। কুয়াশা বেশী থাকলে ধানের বীজ বড় হতে সমস্যা হয়।
সোমবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ব্রম্মগাছা ইউনিয়নের কুটারগাঁতী গ্রামে গেলে দেখা যায়, মাঠ জুড়ে চলছে বীজতলার জমি তৈরী ও বীজ রোপনের কাজ। বর্তমানে এখানকার অধিকাংশ কৃষকরাই দেশীয় জাতের বদলে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজ রোপন করছেন। বিজ্ঞানের যুগে দেশের বিভিন্ন এলাকার মাঠে আধুনিক পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী ও বীজ রোপন করা হলেও মাঠে এখন পর্যন্ত চলছে গতানুগতিক সনাতন পদ্ধতিতে ধানের বীজতলা তৈরী ও বীজ রোপনের কাজ।
এ ব্যাপারে স্থানীয় কয়ড়া গ্রামের কৃষিবিদ কামরুল হাসান শেখ জানান, তৃণমূল পর্যায়ের চাষীদের উন্নত পদ্ধতিতে বোরোধান চাষের জন্য প্রশিক্ষণ ও গতানুগতিক পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার হলে এই অঞ্চলে ধান চাষে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। বোরো চাষী, শুকুর আলী, আব্দুল খালেক ও পলান শেখ বলেন, মৌসুমের শুরুতে বীজতলা জেগে ওঠায় অনেক কৃষকই আনন্দের সঙ্গে বোরো ধানের বীজতলা তৈরী শুরু করেছে। তবে অনেকের বীজতলা তৈরির নিচু জমি পানিতে ডুবেই আছে। যদিও পানি নিষ্কাশনের চেষ্ট করছে কৃষকরা। তবে অতিরিক্ত কুয়াশা হলে ধানের চারা গজানোর সমস্য হয়। এতে করে অর্থ ও শ্রম দুটোই নষ্ট হয়। তাই আগেই বীজতলা তৈরি করে ধানের বীজ রোপন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বীজতলা তৈরীর কাজ শুরু করেছেন কৃষকরা। তবে অধিক কুয়াশা হলে চারা গজানোর অসুবিধা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ধানের চারার সঙ্কট এড়াতে একটু আগেই কৃষকরা আমাদের পরামশ্র অনুযায়ী মাঠে নেমেছে। আমরা আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই বীজতলা তৈরীসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করার লক্ষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

Facebook Comments