সুনামগঞ্জের ফতেপুরে শিশুকন্যা ধর্ষণের শিকার, ধর্ষক আটক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : ধর্ষণ এখন আরেকটা মহামারিতে রুপান্তরিত হয়েছে। প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন জায়গায় ঘটছে ধর্ষণ। সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নোওয়াগাও গ্রামের ৬ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
এব্যাপারে শিশু কন্যার মামা বাদী হয়ে গত ২৬/০৯/২০২০ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী/০৩) এর ৯(১) ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পুর্বক ধর্ষণ করার অপরাধে বিশ্বম্ভরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়,একই গ্রামের রতিশ মজুমদারের বখাটে ছেলে জুয়েল মজুমদার (১৫)শিশু কন্যাকে মোবাইল ফোন দেওয়ার কথা বলে নির্জন একটি ঘরে নিয়ে শিশুটিকে জোর পুর্বক ধর্ষণ করে।
নির্যাতনের ভার সইতে না পেরে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন এসে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার সুনামগঞ্জে প্রেরন করেন।
সরেজমিনে শিশুকন্যার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর)দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নোয়াগাও গ্রামের এক দিনমজুরের ৬ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা বাড়িতে খেলা করছিল। এসময় পাশের বাড়ির রতীশ মজুমদারের বখাটে ছেলে জুয়েল মজমুদার (১৮) ওই শিশুকন্যাকে মোবাইল দেবার কথা বলে পাশের একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। তার কান্নায় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জুয়েল পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নির্যাতিতা শিশু কন্যার মা বাবা আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে বখাটের স্বজনরা প্রলোভিত করে তাদের আটকে রাখে।
শুক্রবার সকালে তারা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তাদেরকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। শনিবার দুপুরে তার শারিরিক পরীক্ষা করেন সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার।
শিশুটির মামা বলেন, আইনের আশ্রয় নিতে গেলে বখাটের  আত্মীয় স্বজনরা নানা প্রলোভনে মামলা না করার জন্য আটকে রাখে। সুচিকিৎসার ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি করে।

বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি সুরঞ্জিত সরকার বলেন, মঙ্গলবার শিশু বলৎকারের ঘটনাটি ঘটেছে বলে আজ আমরা জানতে পেরেছি। কেউ আমাদের এ বিষয়ে অবগত করেনি। এব্যাপারে শিশু কন্যার মামা বাদী হয়ে গত ২৬/০৯/২০২০ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী/০৩) এর ৯(১)ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পুর্বক ধর্ষন করার অপরাধে বিশ্বম্ভরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শনিবার বিকালে অভিযুক্ত জুয়েল মজুমদারকে আটক করা হয়েছে। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনী ব্যবস্থা নিতে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Facebook Comments