স্ত্রী পরিচায়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান,পালিয়ে গেলেন পরিবার

এসএম বাচ্চু,তালা : নবম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রী গত শুক্রবার থেকে তার প্রেমিক মিঠুন দাসের বাড়িতে অবস্থান করছে। মিঠুন তার পরিবার বিষয়টি আগে থেকে জ্ঞাত হওয়ার কারনে তালা মেরে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার ছোট কাশীপুর গ্রামে। এদিকে, বিয়ের ফাঁদে ফেলে নবম শ্রেণীর ওই স্কুল ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তা ভিডিও করে বিভিন্ন মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগও উঠেছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে।
খুলনা শহরের সোনাডাঙার একটি কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছদ্দনাম কনিকা দাস(১৬) জানান, ছোট কাশিপুর গ্রামের মৃত্যুঞ্জয় দাসের ছেলে মিঠুন দাস পাটকেলঘাটা বাজারে একটি হার্ডওয়ার দোকানের কর্মচারি। দেড় বছর আগে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্থানীয় রাধা গোবিন্দ মন্দিরে ঠাকুরকে সাক্ষী রেখে মিঠুন তার কপালে সিঁদুর পরিয়ে দিয়ে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়। বিষয়টি মিঠুন তার কাকাতো বোন টুম্পাকে বলে তাদের বাড়িতেই শারীরিক সম্পর্ক করতো। খুলনার ছাত্রীনিবাসে গেলে মোবাইলে তাদের কথাবার্তা হতো। করোনা ভাইরাসের কারণে তিন মাস আগে সে বাড়ি আসে। এরপরও বিভিন্ন স্থানে তাদের শারীরিক সম্পর্ক চলতো। সম্প্রতি সে মিঠুনকে স্ত্রী হিসেবে বাড়িতে তোলার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। এতে মিঠুন তাদের অন্তঃরঙ্গ ভিডিও চিত্র সে নিজে ও বন্ধুদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে বিষয়টি সে তার বাবা ও মাকে অবহিত করে। বিষয়টি তার বাবা মিঠুনের বাবা ও মাকে জানায়।
স্কুল ছাত্রীর বাবা জানান, তার মেয়েকে পুত্রবধু হিসেবে মেনে নিতে রাজী না হওয়ায় তারা বিষয়টি স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন। বিষয়টি নিয়ে গত ২২ আগষ্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় রাধাগোবিন্দ মন্দিরে মিঠুনের পরিবারকে ডাকেন এলাকাবাসী। মিঠুনের বোন ইউএনডিপি’র কর্মচারি চম্পা দাস বাড়িতে না থাকায় তারা এক সপ্তাহের সময় চান। গত ২৪ আগষ্ট আমার বাড়িতে বসাবাসি হয়। মিঠুনের পরিবার আমার মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে রাজী না হওয়ায় গত ২৬ আগষ্ট বুধবার সন্ধ্যায় কনিকা নিজ বাড়িতে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যারও চেষ্টা করে। অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে কনিকা স্ত্রীর দাবি নিয়ে মিঠুনের বাড়িতে অবস্থান করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে ২৭ আগষ্ট বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে তালা লাগিয়ে মিঠুন দাস ও তার বাবা মৃত্যুঞ্জয় দাসসহ পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র পালিয়ে যায়। এরপর ২৮ আগষ্ট শুক্রবার থেকে স্ত্রীর দাবিতে মিঠুনদের বাড়ির বারান্দায় অবস্থান করছে কনিকা।
এ বিষয়টি জানার জন্য মিঠুন দাসের মোবাইল ফোন যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. জেল্লাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলো। তবে মেয়েটি লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দিচ্ছে না। লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আমরা আইনগতভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

Facebook Comments