ইউটিউব নেটফ্লিক্সে পপকর্ন বদলে সামিরা’র আচার চলবে কি?

পোষ্ট মর্ডান যুগের সফিসটিকেটেড বিয়েবাড়ির পাতে আচারের দেখা হয়তো সরাসরি মেলে না। অথচ এই একশো বছর আগেও বাঙালি অভিজাত শ্রেণি রীতিমত কলার তুলে বিয়ের মেনুকার্ডে আচারের উল্লেখ করত। ঠনঠনিয়ার দেব বংশের রমাদেবী আর পাত্র প্রভাতকুমার ঘোষের ঐতিহাসিক মিলনে একশো বারো পদ খানা ও পিনার অজগরীয় লিস্টিটি পেশ করে পাঠকদের আর ক্লান্ত করলাম না। ইচ্ছে হলে শংকরের বইটি উল্টে পাল্টে দেখে নেবেন। তবে তালিকায় চুয়ান্ন নম্বরে একেবারে তেলতেলে চেহারা নিয়ে সগর্বে বিরাজ করছে আমের আচার। সাইড ডিশ মনে হলেও ইতিহাসে আচার কিন্তু এলিতেলি খাবার নয়। রীতিমত এলিট খাদ্যাভাস। জুলিয়াস সিজার যেমন খেতেন, ক্লিওপেট্রা নাকি আচার খেতেন নিজের সৌন্দর্য্য বাড়ানোর জন্য। তবে সেই আচারে অ্যান্থনি আদৌ আছাড় খেয়েছিলেন কি না সে সম্পর্কে ইতিহাস নীরব। সৌন্দর্য সচেতন আজকের নারীরা জানার পর আচার দিয়ে বিউটিপ্লাস করবেন কিনা, সে হয়তো সময়ই বলবে। যে সমুদ্র যাত্রায় অতীতে স্কার্ভি রোগের প্রার্দুভাব একদম বাঁধা ছিল, নাবিকদের আচার খাইয়ে তাকে স্রেফ তুড়ি মেড়ে উড়িয়ে দিয়েছিলেন কলম্বাস।

সুলতানি আমলে মানসিংহের হাত ধরে বাংলায় প্রবেশ ঘটে আচারের। সে তো গ্যালো শ’কয়েক বছর আগেকার কথা। হা করে নেটফ্লিক্স গেলা বাঙালির পাতে পপকর্নটাকে ঠেলে সরিয়ে আচারের মাহাত্ম্য ঘোষনার দায়িত্বই যেন নিয়ে ফেলেছে সামিরা’র ছায়াবৃক্ষ। যেখানে রয়েছে বিজনেস স্টাডিজে পড়তে পড়তে ঝাল ধরানো ম্যাথমেটিক্স আর বাজার ঘুরে আনা দুই চোয়াল এক করানো টক মিষ্টি ফলের মিশেল। ঠোট উলটে বলতেই পারেন, এখানে মাথা মোটা ট্রিক্স (পড়ুন ম্যাথমেটিক্স) এলো কোত্থেকে আবার! বাহ রে, কোনটার সাথে কোনটা মিলিয়ে, আর ঠিক ঠিক কতটুকু মেশালে দেশের আনাচে কানাচে পৌছে যাবে, সে অনুপাতটা ঢের ভাল জানেন “আচার বুড়ি” খেতাব পাওয়া সামিরা সামসাদ। তা না হলে কী আর ক্রিকেটার সাব্বির রহমানের ডাইনিং টেবিল অব্দি চলে যেত!

করোনার দাপটে যখন সবকিছু স্তিমিত প্রায়, ঠিক তখনি ভেবে নিল সময়টাকে যথাযথ কাজে লাগাতে হবে।আমের টক-মিষ্টি মোরব্বা থেকে শুরু করে গরুর মাংসের আচার, মুরগির মাংসের আচার, রসুনের আচার; প্রায় সব রকমের আচার পাবেন বাবা-মায়ের উৎসাহে আর সহযোগিতায় গড়ে তোলা সামিরা’র ছায়াবৃক্ষে।

যতক্ষন লেখাটি পড়ছেন, ততক্ষন হয়তো বগুড়াতে সামিরার বাড়ির ছাদে আর উঠোনে আপনার জন্যে রাখা আচারের বোয়েম গুলো সানবাথ করছে খানাপিনার শেষ পাতে ওঠার অপেক্ষায়।

 

Facebook Comments