মার্চ ৯, ২০২১

Latest News Before Everyone in Bangladesh

নিরীহ সেই প্রানীটাই যখন তুমুল শিকারী

২ min read

দেয়ালে এঁটে থাকা টিকটিকি কিংবা রাতের আধারের অপেক্ষায় থাকা তেলাপোকা; আর চির লুকায়িত ইদুরের কথা নাই-বা বললাম! লং জাম্প, হাই জাম্প, ট্রিপল জাম্পের এক বিচিত্র সমাবেশ পাবেন অতি নিরীহ গোবেচারা টাইপ ভাব নিয়ে থাকা বিড়ালের মাঝে। চতুষ্পদ প্রানীদের মধ্যে বিড়াল আর চিতাবাঘের মতন এতো ক্ষিপ্রতা আর যে কোন মুহূর্তে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করে ফেলার মতন মেরুদন্ডের অস্বাভাবিক নমনীয়তা কিন্তু আর কোন প্রানীর মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না।

বিড়াল নিয়ে ফিচারটি তৈরিতে ছবি দিয়ে সহায়তা করার জন্য ‘ক্যাট সোসাইটি বাংলাদেশ’ এবং ‘বিডি ক্যাটস কলোনি ‘গ্রুপ ও তার মেম্বারদের অশেষ ধন্যবাদ।

পত্রিকায় আপনার পোষা বিড়ালের গল্পটি প্রকাশ করতে এখানে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করুন

নির্ভুল শিকারী বিড়াল

বিশেষজ্ঞরা এখন বিড়ালকে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভুল ও শিকারি প্রাণীদের অন্যতম মনে করছেন। ব্রিটেনের এক সমীক্ষা বলছে, সে দেশের ৯০ লাখ পোষা বিড়াল বছরে ৯ কোটি ২০ লাখ শিকার ঘরে আনে। তার মধ্যে ২ কোটি ৭০ লাখ হচ্ছে পাখি। শিকার ধরায় সাফল্যের এই হার বাঘ-সিংহের মতো বড় বিড়ালদের কাছেও ঈর্ষণীয়! এদের ব্যবহার বুঝতে অন্তত ১০০টি বিড়ালের গায়ে জিপিএস ট্র্যাকার লাগিয়ে এবং ক্যামেরার সাহায্য নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ করেছেন লন্ডনের প্রাণীবিদ লিজ বোনি্ননসহ এক দল গবেষক। তারা জানাচ্ছেন, একদম বাঘের মতোই গুঁড়ি মেরে ঝুঁকে শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গৃহপালিত বিড়াল। নিজের দৈর্ঘ্যের চেয়ে পাঁচ গুণ দূরত্ব লাফিয়ে পেরুতে পারে তারা। শিকারের আগে পাখিকে নিজের কাছে টানতে এমনকি পাখির গলার আওয়াজও নকল করার চেষ্টা করে বিড়াল।

প্রধানত আওয়াজ শুনে শিকারের অবস্থান জানে তারা। সঙ্গে-সঙ্গে প্রসারিত হয় তাদের চোখের তারারল্প্রব্দ। তৈরি হওয়ার জন্য শরীরের পেছন দিকটা একটু ঝাঁকিয়ে নেয় তারা। এর পর শিকারকে ধাওয়া করা, ধরে ফেলা, তারপর মারা। শিকার ধরার ঠিক আগমুহূর্তে দৌড়ে ঘোড়ার থেকেও বেশি শক্তি প্রয়োগ করে বিড়াল। খাওয়ার আগে তারা শিকারকেও খানিকটা ঝাঁকিয়ে নেয়, যাতে সেটির পেশিগুলো আলগা হয়ে যায়। অর্থাৎ আদর্শ শিকারির সব ক’টি লক্ষণই এদের মধ্যে প্রকট। রয়্যাল ভেটেরিনারি কলেজের গবেষকরা বিড়ালের পায়ের সন্ধিতে সেন্সর লাগিয়ে দেখেছেন, শিকারের ওপর ঝাঁপানোর সময় খুব কম ক্ষেত্রেই বিড়ালকে পা সোজা করতে হয়। হাড়ের গঠনের নমনীয়তার কারণে বিড়াল দেহ চালনার ব্যাপারে বাঘ-সিংহের চেয়ে তুলনামূলক বেশিই দক্ষ।

পত্রিকায় আপনার পোষা বিড়ালের গল্পটি প্রকাশ করতে এখানে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করুন

কেন আপনার বিড়ালটি শিকারী নয়

ইঁদুর ধরতে বিড়ালের তৎপরতা থাকবে তাইতো স্বাভাবিক। সুযোগ পেলেই ইঁদুরের ঘাড় মটকে ধরবে। তবে হচ্ছে কি তাই? শহরের বাসায় যে বিড়ালছানা বেড়ে উঠছে, সে সবসময় যে পাশবিক হবে সেটা আর ভাবার সময় নেই। বরং পশুর মধ্যে যে পশুত্ব থাকবে সেটাই বা কেন!

পশুর মধ্যে পাশবিকতা নিয়ে গবেষণা করেছেন কিছু বিজ্ঞানী। তারা বলছেন, পশু মানেই পাশবিক, সেই ধারণা আর ঠিক নয়। এখন আমাদের ড্রইং রুমে যে বিড়াল সোফায় শুয়ে আরাম করতে থাকে। সে কিন্তু ইঁদুর বা টিকটিকি দেখলেই ছুটে যেতে চায় না। বরং তার ভাবটা এমন যে সে ডায়েট করছে। বা কেউ মুখে ‍তুলে না দিলে খাবে না।

প্রায় একশ’ বছর আগে বিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন,‘আসলেই পাশবিক ব্যবহার কি? আর কি শেখার আছে?’

এ ধরনের সব গবেষণার ফল এসেছে সময়ানুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন। তবে এ প্রশ্ন যখন বিড়ালের বিষয়ে উঠবে তখন অবশ্যই সাংহাইয়ের গবেষক এবং সাইকোলজিক্যাল সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক জিং ইয়াংয়ের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ তিনি এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছেন।

তিনি বলেন, প্রথম কথাই হচ্ছে স্বভাবজাতভাবেই প্রাণীদের মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। বিড়ালছানারা জন্ম থেকেই শেখা শুরু করে। তারা নড়াচড়া করে, চিঁ চিঁ আওয়াজ করে, তাদের পাগুলোকে বাড়ানোর চেষ্টা করে।

তাদের খাওয়া আর বন্ধুত্বপূর্ণ চেটে দেয়া বাড়তে থাকে। তারা যখন চোখ খোলে তাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো থেকে শিখতে থাকে। বিড়ালছানারা একে অপরকে অনুসরণ করতে থাকে আর পরিবেশ থেকেও শিক্ষা নিতে থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করেও বিড়ালের প্রেরণা আর শিক্ষা দুটোর মধ্যে সহজে মিল পাননি।

এসব উত্তর খুঁজতে ১৯২০ সাল থেকে শুরু করে দশ বছর ধরে বিড়াল নিয়ে গবেষণা করেন অধ্যাপক কুয়ো রান। তিনি বিভিন্ন পরিবেশে বিড়ালদের বড় করে তোলেন। তিনি একা বিড়াল যেমন বড় করেন, তেমনি পরিবারসহও বড় করে তোলেন। তিনি শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যে এ গবেষণা পরিচালনা করেন, ‘কারো প্রেরণা বা প্রবৃত্তি ছাড়াই কি বিড়াল ইঁদুর শিকার করে?’

এ গবেষণার জন্যে এক দশক সময় লাগে। কিন্তু চূড়ান্তভাবে তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হন, বিড়াল শুধুমাত্র তখনই শিকারী হয়ে উঠতে পারে যখন তার মা তাকে এ শিক্ষা দেয়। যদি বিড়ালছানার মা শিকারী না হয়, বা সেও মা ছাড়া বড় হয়, তবে দেখা যায় সেই বিড়ালছানা হয়তো ইঁদুরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে। অথবা ইঁদুর দেখলেও এড়িয়ে যাবে বা তাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে।

তুলনামূলক মনোবিজ্ঞানের জার্নালে অধ্যাপক কুয়ো ১৯৩০ সালে বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় দেখা যায়, বিড়ালছানা যেমন ইঁদুরকে হত্যা করতে পারে, তেমনি ভালবাসতে পারে, ভয়ও পেতে পারে বা খেলাও করতে পারে। এটা নির্ভর করে বিড়ালছানার জীবন ইতিহাসের ওপর।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি নিজের বাসার বিড়াল গুইডোর কথা উল্লেখ করে বলেন, গুইডো একটি ড্রেইন দুর্ঘটনায় তার পরিবারকে হারায়। এরপর উদ্ধারকারী মানুষের সঙ্গেই সে বেড়ে ওঠে। মানুষের অভিভাকত্বে বেড়ে ওঠায় সে নিজের শিকারী দক্ষতা হারিয়ে ফেলে।

সে এখন শিকারের চেয়ে প্রতিবেশীর বাসায় নজর রাখা, সূর্যের আলোয় বসে থাকা এবং খেলে সময় কাটাতে পছন্দ করে।

পত্রিকায় আপনার পোষা বিড়ালের গল্পটি প্রকাশ করতে এখানে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করুন

বিড়াল যখন বন্য থেকে গৃহপালিত হল

বিড়াল শুরু থেকে এত আদুরে বা অলস ধরণের প্রাণী ছিল না। প্রায় কয়েক হাজার বছর ধরে কৃষক এবং নাবিকদের হয়ে তারা ইঁদুর ধরেছে এবং অনেক অনেক উপকার করে এসেছে। প্রকৃতপক্ষে বিড়ালই মানুষের সঙ্গ বেছে নিয়েছিল। এতে দুই পক্ষেরই লাভ হলো। গবেষণায় আরো জানা যায় যে, প্রায় ২০০ রকম প্রাচীন বিড়ালের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা গেছে এগুলো মূলত পাথুরে যুগ, মিশরের মমি যুগ কিংবা ভাইকিং গ্রেভসের সময়কার।

বিড়াল পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে রোমান যুগে। মজার ব্যাপার হলো টবি বিড়ালগুলোর উৎপত্তি হয়েছে মধ্যযুগে। এই বিড়ালগুলোর ডিএনএ-তে এমন কিছু জিন পাওয়া গেছে যার কারণে এদের শরীরে নিখুঁত পশমের ডিজাইন থাকে। চতুর্দশ শতাব্দীর শুরুর দিকে পূর্ব তুরষ্কে এই গবেষণা করা হয়। বেশ কয়েক শত বছরের মাঝেই এই বিড়ালগুলো সারা বিশ্বে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বুদ্ধির দিক থেকে টবি বিড়াল অন্যান্য প্রজাতি থেকে পিছিয়েই আছে বলা যায়। ড. গেইগল আরো বলেন, বিড়াল আসলে প্রথম দিকে খুব কমই সংকরিত হতো যা কুকুরের বৈশিষ্টের সম্পূর্ণ বিপরীত। এছাড়া বিড়াল অনেক বেশি উপকারীও ছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক রকমের সংকর বিড়াল দেখা যায়। যেমন: ব্যাম্বিনো, কর্নিশ রেক্স, পার্সিয়ান ইত্যাদি। বর্তমানে সারা বিশ্বে বিভিন্ন জাতের গৃহপালিত বিড়াল দেখা যায়। এর একটি ছোট্ট তালিকা নিচে দেয়া হলো।

গৃহপালিত বিড়ালের জাত তালিকা

আমেরিকান কার্ল (American Curl); প্রাপ্তিস্থান: যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকান ববটেইল (American Bobtail); প্রাপ্তিস্থান: যুক্তরাষ্ট্র

বারমিল্লা (Burmilla); প্রাপ্তিস্থান: যুক্তরাজ্য

হাইল্যান্ডার (Highlander); প্রাপ্তিস্থান: যুক্তরাষ্ট্র

জাপানিজ ববটেইল (Japanese Bobtail); প্রাপ্তিস্থান: জাপান

কোরিয়ান ববটেইল (Korean Bobtail); প্রাপ্তিস্থান: কোরিয়া

কুরিলিয়ান ববটেইল বা কুরিল দ্বীপের ববটেইল (Kurilian Bobtail, or Kuril Islands Bobtail); প্রাপ্তিস্থান: পূর্ব রাশিয়া ও জাপান

ম্যাঙ্কক্স (Manx); প্রাপ্তিস্থান: যুক্তরাজ্য (আইল্যাণ্ড অব ম্যান)

স্কটিশ ফোল্ড (Scottish Fold); প্রাপ্তিস্থান: যুক্তরাজ্য (স্কটল্যাণ্ড)

মিনস্কিন (Minskin); প্রাপ্তিস্থান: যুক্তরাষ্ট্র

এ্যাবিসিনিয়ান (Abyssinian); প্রাপ্তিস্থান: ইথিওপিয়া

আমেরিকান শর্টহেয়ার (American Shorthair); প্রাপ্তিস্থান: যুক্তরাষ্ট্র

এ্যারাবিয়ান মাউ (Arabian Mau); প্রাপ্তিস্থান: আরব্য দ্বীপসমূহ

অস্ট্রেলিয়ান মিষ্ট (Australian Mist); প্রাপ্তিস্থান: অস্ট্রেলিয়া

এশিয়ান (Asian) মূল নেয়া হয়েছে এশিয়া থেকে

বেঙ্গল (Bengal); গড়ে তোলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে

বোম্বে (Bombay); প্রাপ্তিস্থান: এশিয়া; গড়ে তোলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে

পত্রিকায় আপনার পোষা বিড়ালের গল্পটি প্রকাশ করতে এখানে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করুন

*Courtesy – Samakal, BanglaNews24, Roar Media

Facebook Comments