বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইনের বদলী

এস এম মারুফ, ক্রাইম রিপোর্টার যশোর : অবশেষে বহু আলোচিত সমালোচিত ও বিতর্কিত কাস্টমস হাউজের স্বর্ন চুরি উদঘাটনের ব্যার্থ কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীকে বদলী করা হয়েছে। তাকে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ থেকে কুমিল্লা কাস্টমস এক্সাইস ও ভ্যাট কমিশনারেটে বদলী করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সরকারী প্রজ্ঞাপনে জারী করে এ বদলী আদেশ দেওয়া হয়েছে। তার স্থলভিষিক্ত হচ্ছেন কুমিল্লা থেকে আগত কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট আজিজুর রহমান।

সুত্র মতে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে বেলাল হোসাইন চৌধুরী গত ২৫/১১/১৮ ইং তারিখে কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। সেই থেকে তিনি নানা সময় নানা কর্মকান্ড নিয়ে বিতর্কিত ও সমালোচিত। এই বেলাল হোসাইন চৌধুরী সাবেক দুদুকের এক কর্মকর্তার সাথে মতবিরোধ হওয়ায় আহসান আলী নামে ওই কর্মকর্তার নামে মামলা করেন বেনাপোল পোর্ট থানায়। এ নিয়ে বেনাপোল এর ব্যাবসায়িরা আহসান আলীকে গ্রেফতার এর দাবিতে মানববন্ধন করেন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সব চেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল এই বেলাল হোসাইন চৌধুরীর আমলে তিনি বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার থাকাকালিন গত ৯/১১/১৯ ইং তারিখে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে ১৯ কেজি ৩৮০ গ্রাম স্বর্ণ কাস্টমস হাউজের ভোল্ট থেকে চুরি সংঘটিত হয়। তবে সেখানে আরো স্বর্ণালংকারও বৈদেশিক মুদ্রা ছিল। আলোচিত এই চুরি যাওয়া মালের রহস্য দীর্ঘ ৮ মাস পার হলেও উদঘটান করতে পারেনি পুলিশ। ওই সময় বেনাপোল কাস্টমস এর যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২৮ নভেম্বর মামলাটি চলে যায় সিআইডিতে। চুরির ঘটনা জানার পরপরই ভোল্টের গোডাউনের দায়িত্বে থাকা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহবুল সর্দারকে দায়িত্ব অবহেলার জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চুরি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশ, পিবিআই, গোয়েন্দা, ডিবি, সিআইডি, এনএসআই সহ সকল সংস্থাকে তাৎক্ষনিক ভাবে সম্পৃক্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অনেকে কাস্টমস এর অবহেলাকে দায়ি করেছে সচেতন মহল। তারা বলেছিল অপারধিকে সনাক্ত করতে ব্যার্থ হলে আগামীতে এমন ঘটনা আবারও ঘটবে। তাই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে।

ওই সময় বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসইন চোধুরী বলেছিলেন স্বর্ণ চুরির ঘটনা কাস্টমসের সব অর্জনকে যেন ম্লান করে দিয়েছে। চোরকে দ্রুত ধরা দরকার, যাতে আর কেউ ভবিষ্যাতে সরকারের কোন সম্পদ চুরি করতে সাহস না পায়। প্রয়োজনে বিষয়টি বড় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে যেন দ্রুত রহস্য উদঘাটন হয় তার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।কিন্তু দীর্ঘ ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও কোন অগ্রগতি হয়নি স্বর্ণ উদ্ধারের।
এ ঘটনায় কাস্টমসের এনজিও নামে কর্মরত আজিবর (৪৮) টিপু সুলতান (২৮) লাল্টু মিয়া (৪০) আসাদ (৩৫) সুলতান মোড়ল (৫৫) ও মহব্বত (৫৫) নামে ৬ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবং কাস্টমস এর ৪ জন সিপাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল যুগ। কাস্টসে রয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা। সে সাথে রয়েছে সিসি ক্যামেরা। তাহলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গেল কোথায়। আর সিসি ক্যামেরায় যদি ফুটেজ না থাকে তবে ওই দিন কে লাইন অফ রেখেছে তাও তদন্তর প্রয়োজন। সব নিয়ে কাস্টমস হাউজের স্বর্ণ চুরিতে রয়েছে একটি রহস্যর গন্ধ।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com