“উফ্ বাবা! এখন এত রাতে ডিস্টার্ব করোনাতো। দেখসোনা সবাই বাবা দিবস নিয়ে পোস্ট করতেসে অথচ তোমার সাথে একটাও ভালো ছবি না থাকায় আমি এখনো পোস্ট দিতে পারিনাই। একটা ছবিতেওতো ভালো পোজ দিতে পারোনা। তার উপর এখন এতরাতে ডিস্টার্ব করতে এসেছে? অসহ্য যত্তসব।”

রাত ১টার সময় মেয়েকে জেগে থাকতে দেখে চা বানিয়ে দিতে বলায় বাবাকে উপরের কথাগুলো শোনাল জুহি।

মেয়ের কাছ থেকে এমন কথা শুনে নিজের ঘরে এসে আবার বইপড়াই মনোযোগ দিলেন আশফাক সাহেব। আশফাক সাহেবের মা মরা মেয়ে জুহি। সেই তিন বছর বয়সে জুহির মা মারা যাওয়ার পর থেকে মেয়েকে একাই সামলাচ্ছেন তিনি। মেয়ের কথা ভেবে সবাই জোরাজোরি করলেও দ্বিতীয় বিয়ে করেননি তিনি। কিন্তু ইদানীং তার মেয়ে যেন বদলে যাচ্ছে। মেয়েকে কিছু বললেই মেয়ে তাকে দু’কথা শুনিয়ে দেয়।

অন্যদিকে বান্ধবীরা সবাই তাদের বাবাকে নিয়ে পোস্ট দিতে শুরু করলেও এখনো কোনো পোস্ট না দিতে পারায় যথেষ্ট বিরক্ত জুহি।
খানিকবাদেই তার বয়ফ্রেন্ড আরিফ তাকে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেই জুহি বলে,
– সবাই বাবাকে নিয়ে পোস্ট দিচ্ছে। তুমি দিবানা?
– কেন পোস্ট না করলে কী হবে?
– আরে কোনো পোস্ট না করলে সবাই ভাববে আংকেল কে তুমি ভালোইবাসোনা।
– সো হোয়াট জুহি?(কিছুটা রেগে গিয়ে)
– মানে?
– কারও বলার উপর বা আমার পোস্ট দেওয়ার উপর কী আমার বাবার প্রতি ভালোবাসা নির্ভর করে?
– না না তা না।
– তাহলে?
– কিন্তু তুমি পোস্ট না দিলে সবাই আমাকেও তো কথা শুনাবে।
– আচ্ছা আমাকে বলোতো আংকেলকে নিয়ে কোথাও তুমি বেরাতো গেছো?
– না।
– আংকেলকে রান্না করে খাইয়েছো কোনোদিন?
– না।
– কোনোদিন জানতে চেয়েছ উনি কেমন আছেন?
– না।
– উনাকে বলেছ যে বাবা তোমায় ভালোবাসি?
– না।
– হাহাহা। বুঝলে জুহি তোমার মতই কিছু মানুষ সারাবছর বাবা-মায়ের খোঁজখবর রাখেনা আর এই একটা দিনে এসে তারা শো অফ করে তাদের ভালোবাসা দেখায়।

আরিফের কথা শুনে জুহির মনে হলো সেতো এভাবে কোনোদিন ভেবে দেখেনাই।আর একটু আগেই সে তার বাবার সাথে কী যা তা ব্যবহার করলো।
জুহির কোনো উত্তর না পেয়ে আরিফ বলে উঠে,
– কী হলো কথা বলছোনা কেন?
– তোমার সাথে একটু পরে কথা বলি?
– আচ্ছা।
ফোন কেটেই জুহি রান্নাঘরে গিয়ে বাবা আর তার জন্য চা বানিয়ে মগে করে তা নিয়ে বাবার ঘরে নিয়ে যায়। গিয়ে দেখে বাবা বই পড়ছে। সে দরজায় নক করে বলে,
– বাবা আসবো?
– আয় মা আয়।
– এই নাও তোমার চা।

বাবা মেয়েতে চা খেতে খেতে টুকটাক কথা বলছিল। মেয়ের আজকের ব্যবহার দেখে আশফাক বেশ অবাক হওয়ার সাথে সাথে খুশিও হয়েছিলেন। চা খাওয়া শেষ করেই জুহি বাবাকে বারান্দায় নিয়ে গিয়ে বাবাকে বলে, “বাবা তুমিই আমার সব। ভালোবাসি তোমাকে বাবা”।
বলেই বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগে জুহি। এ কান্না কষ্টের নয়, এ কান্না বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার কান্না।

ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা-মা।

 

ফরাজ ফারদিন সাকিব

এইচএসসি পরীক্ষার্থী

নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী