ফেসবুকে ভিত্তিহীন গুজবের শিকার সাদিয়া তিশা : আত্মহত্যাই কি তার শেষ পথ!

ছবির সাথে ছবি জোড়া দিয়ে মেয়েদের ছবি এখানে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনাটা নতুন নয়। তবে তা যদি হতে থাকে, বার বার হাজার বার; তবে ধৈর্য্যের সীমা ছাড়িয়ে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে চাওয়া মেয়ের সংখ্যা কিন্তু এদেশে নেহাত কম নয়। জার্নালিজম নিয়ে অকুতোভয় ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রংপুর থেকে ঢাকায় পড়তে আসা সাদিয়া তিশা সেই ক্ষতিগ্রস্থ করতে চাওয়া মেয়েদের কাতারে মোটেই পড়েন না হয়তো। তবে দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর ‘মিমিজ’ এবং ‘গুজব’এর শিকার হতে থাকা তিশা’র মানসিক স্বাস্থ্য একেবারেই বিপন্ন প্রায়।

প্রকৃত ছবি

রোদ ঝরা কোন এক গ্রীষ্মের দুপুরে সাদিয়া তার বোনকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন একটু বাইরে ঘুরতে। পথমধ্যে দু’একটা সেলফি না তুললেই নয়, তাই গাড়িতে বসেই চটপট তুলে ফেললেন কয়েকটা। কিন্তু বিধিবাম, ফেসবুকে আপলোড করা সেই ছবি নিয়ে কোন এক অসাধু ফটো এডিটিং বিশেষজ্ঞ সে ছবিতে থাকা সেলফোনে এডিট করে ন্যুড ছবি জুড়ে দেন। এরপর তা বিভিন্ন গ্রুপে বিভিন্ন উপায়ে পোস্ট করতে থাকেন সেই এডিটর।

গল্পটা এখানেই ফুরিয়ে যাচ্ছে না। কেচো খুড়তে একেবারে সাপ বেরিয়ে এলো! আর্টিকেল লেখার স্বার্থে সেই সব গ্রুপ সম্পর্কে খোজ নিয়ে জানা গেল, সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক কন্টেন্টের সমাহার বসেছে যেন। এবং সাদিয়া তিশা’র ভাষ্যমতে, গ্রুপ গুলোতে কাউকে বিশেষত নারীদের বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার বেপারে অগ্রজ তারা। গ্রুপের গুনগত মান বোঝার স্বার্থে স্ক্রিনশট দেয়া হল:

 

সাদিয়াকে হয়রানির বিষয়টি আসলে অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। অসংখ্য ফেইক আইডি তৈরি করে, বিশেষ করে তার নামে পেইজ তৈরি করে বিকৃত এবং নিয়মিত বিবিধ নারী সম্বলিত প্রাপ্তবয়স্ক কন্টেন্ট পোস্ট দেয়া হচ্ছে এই পেইজ থেকে। অনেক ভাবেই সে এই অহেতুক হয়রানি বন্ধের জন্য চেষ্টা করেছে, কিন্তু বস্তুত তেমন কোন লাভ হয়নি। বছর খানিক আগে সাইবার ক্রাইমে একবার রিপোর্ট করেছিল ফেইক আইডি থেকে এডাল্ট কন্টেন্ট ছড়ানোর বেপারে, তখন উক্ত আইডি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তবুও রেহাই মেলেনি বিকৃত মানসিকতার সেই মানুষরূপী অসুস্থদের হাত থেকে।

সাদিয়া তিশা’র নামে তৈরি ফেইক পেইজ এবং আইডি সমূহ:

https://www.facebook.com/sadiaakter013/

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়ছেন এবং ভবিষ্যতে নিজেকে দেশের নামকরা প্রতিবেদক হিসেবে দেখতে চান। তবে অসংখ্যবার হয়রানির শিকার হওয়া সাদিয়া তিশা আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনভাবে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্থ করার পথ থেকে নিজেকে কতদিন সরিয়ে রাখবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, সাদিয়ার ছবি এবং নাম ব্যবহার করে তৈরী সমস্ত পেইজ এবং আইডিতে এবং এডাল্ট কন্টেন্ট ছড়িয়ে দেয়া গ্রুপ গুলিকে রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বানোয়াট ছবি পোস্টকারী এবং পোস্টকৃত গ্রুপগুলোর বিরূদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।

Facebook Comments