রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসএআরআই সেন্টার চালু

নিউজ ডেস্ক : কক্সবাজারে অংশীদার সংস্থা ফুড ফর দ্য হাংরি, রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল, ব্র্যাক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে মিলে ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারে শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের জন্য দু’টি সিভিয়ার একিউট রেস্পিরেটরি ইনফেকশন আইসোলেশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার (এসএআরআই আইটিসি) চালু করেছে।
বৃহস্পতিবার ইউএনএইচসিআর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই দুটি এসএআরআই আইটিসির একটি কুতুপালং ৫ নম্বর ক্যাম্পে ও অপরটি উখিয়ায় অবস্থিত। প্রায় ২০০ শয্যা বিশিষ্ট এই কেন্দ্র দুইটিতে কোভিড-১৯ এর গুরুতর রোগীদের সেবা দেয়া হবে, চিকিৎসা পাবে শরণার্থী ও স্থানীয় সবাই।
গত ১৮ মে প্রথম এসএআরআই আইটিসি অনলাইনে উদ্বোধন করার সময় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই মানবিক কার্যক্রমের শুরু থেকেই ইউএনএইচসিআর বাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার উখিয়ায় ১৪৪ শয্যার দ্বিতীয় এসএআরআই আইটিসিটি উদ্বোধনকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইউএনএইচসিআরকে জানাচ্ছি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। ইউএনএইচসিআর-এর তৈরি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শরণার্থী ও স্থানীয় কোভিড-১৯ রোগীদের সেবা দেয়া হবে।
ইউএনএইচসিআর-এর সিনিয়র অপারেশনস ম্যানেজার হিনাকো টোকি বলেন, এখন ক্যাম্পের ভেতরের ও বাইরের রোগীদের আইসোলেশন করে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে যেন তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। গুরুতর রোগীদের আইসোলেশন সেন্টারে রাখার কারণে তাদের পরিবার ও এলাকা কম ঝুঁকিতে থাকবে। এটি আমাদের সবার একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও অর্জন।
এই দুইটি এসএআরআই আইটিসি কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তার বৃহত্তর মানবিক প্রয়াসের একটি অংশ। এর আরেকটি উদ্দেশ্য এই রোগের গুরুতর রোগীদের মেডিকেল চাহিদা নিশ্চিত করা। পুরো জেলায় শরণার্থী ও স্থানীয়দের জন্য ১২টি এসএআরআই আইটিসি করা হবে, যেখানে সর্বমোট শয্যা সংখ্যা হবে ১ হাজার ৯০০টি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার জেলার সব সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শরণার্থী ক্যাম্পের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ইতিমধ্যেই পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)সহ আরও আনুসাঙ্গিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইউএনএইচসিআর-এর সহযোগিতায় তৈরি হচ্ছে ১০টি আইসিইউ বেড ও ৮টি হাই ডিপেনডেন্সি বেড। শীঘ্রই শেষ হতে যাওয়া এই ইউনিটে জনবলও দিবে ইউএনএইচসিআর, যাদের কাজ হবে গুরুতর রোগীদের সেবাদান।