লাইভে এসে মুখে স্যাভলন স্প্রে, আফরিনকে র‍্যাব-পুলিশের কাউন্সেলিং

ফেসবুক লাইভে পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপনের সময় মুখে স্যাভলন স্প্রে করা এবং করোনাভাইরাস নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ায় ফেসবুক সেলিব্রিটি আফরিন আনিস রহমানকে মঙ্গলবার (১৯ মে) জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগ ও র‍্যাবের একটি দল। জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করতে তাকে কাউন্সেলিং করা হয়।

ভবিষ্যতে লাইভে এসে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড করবেন না বলে পুলিশের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আফরিন আনিস। মঙ্গলবার রাতেই নিজের ফেসবুক পেজে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন আফরিন।

পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আফরিন করোনা ও স্যাভলন নিয়ে ফেসবুক লাইভে অপ্রাসঙ্গিক, অনভিপ্রেত, অসত্য ও অতিরঞ্জিত বক্তব্য দেন। এ কারণে তাকে ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগ, ডিএমপি ও র‍্যাব-২-এর আগারগাঁও ক্যাম্প থেকে কাউন্সেলিং করা হয়েছে। উনি ওনার ভুল বুঝতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে লাইভে এসে এ ধরনের তথ্যযুক্ত কোনো বক্তব্য প্রকাশ করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, তাকে নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনক ও মানহানিকর পোস্ট তৈরি ও কমেন্ট করছেন। এটিও আইনানুগ অপরাধ। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে ফেসবুক লাইভে একটি পোশাকের বিজ্ঞাপন করার সময় আফরিন আনিস করোনা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমি দোয়া করি যেন আমার করোনা হয়, কারণ এটা হলে আমার ইমিউনিটি সিস্টেম আরও বেশি স্ট্রং হবে। এছাড়া তিনি রূপচর্চার সময় মুখে স্যাভলন জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করেন বলেও লাইভে মন্তব্য করেন। লাইভের একপর্যায়ে তিনি তার নিজের মুখে, গলায়, হাতে ও চুলে স্যাভলন জীবাণুনাশক স্প্রে করেন।

এদিকে আফরিনের স্যাভলন স্প্রের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এ বিষয়ে নিজেদের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেয় স্যাভলন বাংলাদেশ।

স্যাভলন জানায়, স্যাভলন ডিসইনফেকট্যান্ট স্প্রে পণ্যটি শুধুমাত্র সারফেস যেমন-দরজার হাতল, লিফটের বাটন, গাড়ির হাতল, ময়লার বিন ইত্যাদি স্থানে ব্যবহারের জন্য। ত্বকে বা বাতাসে ব্যবহারের জন্য নয়।