বয়স ১৫ কিংবা ২৫, ৩৫ অথবা ৫০; মেহরিন প্রিয়ার আছে ত্বকের সব সমাধান

রাস্তার ধুলাবালি, সারা দিনের পরিশ্রম অথবা পারিবারিক সম্পর্কে মনোমালিন্যের ধকলে লাবণ্য হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে যায় ত্বক। দিনের শেষে নামমাত্রই ত্বকের যত্ন নেওয়া হয় বা নেওয়াই হয় না বললেই চলে!

ত্বক সুন্দর ও সুস্থ রাখতে নিয়মিত যত্নের কোনো বিকল্প নেই। এই যত্ন নিতে হবে ত্বকের ধরন আর আবহাওয়ার মতি বুঝে। একেক ঋতুতে একেকভাবে ত্বকের যত্ন নিতে হয়। আবার সব বয়সে ত্বকের যত্নও এক রকম হবে না। শুষ্ক, তৈলাক্ত, মিশ্র, স্বাভাবিক ও সংবেদনশীল—এই পাঁচ ত্বকের একেক রকম যত্ন প্রয়োজন হয়। আবার সব বয়সী ত্বকের সমস্যাও হয় ভিন্ন ভিন্ন। তাই বয়স, ত্বকের প্রকৃতি ও সমস্যা বুঝে তারপর ত্বক চর্চার রুটিন নিয়ে কথা বলবে এ লেভেলে অধ্যয়নরত মেহরিন তাসনিম প্রিয়া-

বয়স ১৫ থেকে ২৫

অল্প বয়সীদের ত্বকে তেমন কোনো সমস্যা থাকে না। বয়স একটু বাড়তে শুরু করলে ধীরে ধীরে সমস্যা দেখা দেয়। কিশোরীদের ত্বকের প্রধান সমস্যা ব্রণ। বয়ঃসন্ধিকালে এটা বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ জন্য দিনের মধ্যে কয়েকবার পরিষ্কার পানির ঝাপটা দিয়ে ত্বক ধুতে হবে। এতে ত্বকে তেলের প্রভাব কমবে, ত্বক পরিষ্কার থাকবে। ব্রণ হওয়া থেকে মুক্তি মিলবে। এ ছাড়া সপ্তাহে এক দিন নিতে হবে বিশেষ যত্ন। কমলালেবুর খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে নিন। মসুর ডাল আর চাল ভিজিয়ে ভালো করে পিষে নিন। ওই পেস্টের মধ্যে চন্দন পাউডার, মুলতানি মাটি, কমলালেবুর খোসার গুঁড়া মিশিয়ে ভালো করে মিলিয়ে নিন। এই মিশ্রণের মধ্যে দুই চামচ দুধও মিশিয়ে নিতে পারেন। মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণ দূর হবে। প্রতিবার ত্বক পরিষ্কারের সময় ক্লিনজিং-টোনিং-ময়েশ্চারাইজিং—এই তিনটি ধাপ মেনে চলতে হবে। রোদে যাওয়ার আগে ত্বকের খোলা অংশে লাগাতে হবে বিশেষ লোশন, যা আলট্রাভায়োলেট ‘এ’ এবং ‘বি’ দুটি ক্ষতিকর রশ্মিই আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

বয়স ২৫ থেকে ৩৫

পঁচিশ থেকে ত্রিশের শুরুতে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের ত্বক প্রকৃতিগত কারণেই একটু তেলতেলে হয়। তাই বেশির ভাগ মেয়েই এই সময় ব্রণের পাশপাশি নিস্তেজ ত্বকের সমস্যায় ভোগেন। ব্রণ থাকলে রেটিনয়িক অ্যাসিডযুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। ত্বকের নিস্তেজ ভাব দূর করতে শসা, পাতিলেবুর রস, সাদা চন্দন, গ্লিসারিন, মধু ও গোলাপ জলের মিশ্রণ তৈরি করে প্যাক বানিয়ে ত্বকে লাগান। ত্বকের টান টান ভাব ধরে রাখতে ডিমের সাদা অংশ, মধু, সিডার ভিনিগার মেশানো প্যাক নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন। এন্টি এজিংয়ের কথা শোনামাত্রই লাফিয়ে উঠে ব্লিচ, স্টিম ফেসিয়াল বা কোনো রাসায়নিক ট্রিটমেন্টের কথা ভাবা শুরু করবেন না; বরং যোগব্যায়াম ও এক্সারসাইজ করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার খান। ত্বক তেলতেলে হলে বা অ্যাকনের জন্য তেলমুক্ত ফেসওয়াশ,  হালকা স্ক্রাব, টোনার এবং ম্যাট ফিনিশের সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

পঁয়ত্রিশের পরে

সাধারণত এই বয়স থেকেই চোখের নিচে ফাইন লাইনস এবং ডার্ক সার্কল দেখা দেয়। বেশির ভাগ রূপবিশেষজ্ঞের মতে, নায়াসাইনামাইড এবং কিউ ১০ এনজাইমযুক্ত আন্ডার আইক্রিম ত্রিশের পর থেকেই লাগানো উচিত। আর চল্লিশের পর থেকে আন্ডার আইক্রিমকে আপনার নিত্য ব্যবহার্য প্রডাক্টের তালিকায় রাখতেই হবে। প্রতিদিন রাত্রে ব্যবহার করুন পেপটাইডযুক্ত আইক্রিম। তার সঙ্গে রোজমেরি অয়েল বা আমন্ড অয়েলের সঙ্গে মাখন মিশিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে ত্বক নতুন জীবন লাভ করবে এবং ফিরে আসবে উজ্জ্বলতাও। ব্যবহার করতে পারেন তিলের তেল, অলিভ অয়েল এবং পিচ বা আপেলের মতো ফলের নির্যাসও।

পঞ্চাশ পেরোলে

পঞ্চাশে পা দিলে মোটামুটি সব মহিলারই মেনোপজ হয়ে যায়। মেনোপজ মানেই কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ আর হরমোনের ভারসাম্য কম-বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সময় ত্বক নির্জীব দেখায়। ত্বকের মেটাবলিজম সিস্টেম দুবর্ল হয়ে যায়। ত্বকে বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়। ত্বকের মৃত কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই বয়সে ত্বকের চামড়া ঝুলে যায়। কিছু নিয়ম মেনে চললে ত্বকের সমস্যাগুলো কিছুটা কমানো সম্ভব। দরকার সঠিক খাদ্য তালিকা, নিয়মিত ত্বক ও শরীরের যত্ন। রঙিন শাকসবজি, ফলমূল বেশি বেশি খেতে হবে। মাংসের বদলে মাছ বেশি খেতে হবে।

যে কো ঋতু কিংবা বয়সের ত্বকের সব ধরনের সমাধানের জন্য মেহরিন প্রিয়ার ‘আমোর বাই মেহরিন’ ফেসবুক পেইজে যোগাযোগ করতে পারেন। যেখানে ব্রন, বাম্প, মুখে কালো দাগ, হাইপারপিগমেন্টেশন, অতিরিক্ত মেদ ও ওজন, চুল পড়া সমস্যার জন্য অথবা ত্বক ফর্সাকারীসহ স্কিন কেয়ারের যে কোন পন্য পেতে পারেন রিজোনেবল প্রাইসে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com