করোনাকালে খাবার নিয়ে যে পরামর্শ স্বাস্থ্য অধিদফতরের

নিজস্ব প্রতিবেদক : শারীরিকভাবে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ভিটামিন সি, প্রোটিন, জিঙ্ক, চর্বিসহ সম্মিলিত বা আদর্শ খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

নিজের সুরক্ষা নিজের কাছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তরল খাবার ও পানি বেশি করে খাব। বিশেষ করে ইফতারের পরে তরল খাবার ও পানি যেন বেশি করে পান করি। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন টাটকা শাকসবজি, ফলমূল– এগুলো বেশি করে খাদ্য তালিকায় রাখি। প্রোটিনও রাখতে হবে। কারণ প্রোটিন হলো- জিঙ্কের ভালো উৎস। জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেন আমরা খাই। ডাল জাতীয় খাবারের মধ্যে প্রোটিনের উৎস আছে। আমরা ডাল জাতীয় খাবারও বেশি করে খেতে পারি। খাবার তালিকায় যেন সম্মিলিতভাবে শর্করা, প্রোটিন, চর্বি বা ফ্যাট থাকে। সম্মিলিত খাদ্য বা আদর্শ খাদ্য যেন আমরা গ্রহণ করার চেষ্টা করি।’

নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মিতভাবে মাস্ক ব্যবহার করেন। পরিবারের সবাই যেন মাস্ক ব্যবহার করে, সেই বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিতভাবে সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যেখানে জনসমাগম বেশি, সেসব জায়গায় যেন আমরা না যাই। এ কাজগুলো আসলে খুবই সহজ। এই সাধারণ কাজগুলো করেই নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারি।’

নিয়মিতভাবে শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘এতে আমাদের শরীরের যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং নিজেরাও শারীরিকভাবে ভালো থাকব। নিজের মনোবলকে সবসময় চাঙা রাখা। আক্রান্ত হই বা না হই, সবাইকে আমরা বাড়িতে থাকার জন্য উপদেশ দিচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে আমরা যেন মনোবল চাঙা রাখি। মানসিকভাবে উজ্জীবিত থাকি। আর দীর্ঘদিন ধরে যারা অসুখে ভুগছেন, তাদের প্রতি যেন আমরা বিশেষভাবে খেয়াল রাখি। উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার, ফুসফুসে সমস্যা, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট, তারা বিশেষভাবে এইসব নিয়মনীতি মেনে চলবেন। তাহলেই আপনারা ভালো থাকবেন, নিজে সুরক্ষিত থাকবেন।’

এর আগে তিনি জানান, দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৩২৮ জন মারা গেলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ২৭৩ জন, যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২২ হাজার ২৬৮ জনে।

Facebook Comments